বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে (Bengaluru)যৌতুক ও নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বেঙ্গালুরু পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)। তাঁর স্ত্রী, যিনি নিজে একজন আইনজীবী। স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযোগপত্রে আইনজীবী স্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী বিয়ের পর থেকেই ৫০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। শুধু তাই নয়, তিনি বাড়িতে অন্য নারীদের নিয়ে আসতেন এবং স্ত্রীকে হুমকি দিতেন যে, “রাউডিদের দিয়ে তোমাকে খুন করিয়ে দেব”। ঘটনার চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যখন স্বামী দা (ম্যাচেট) নিয়ে স্ত্রীর বাবার ওপর হামলা চালান।
আরও দেখুনঃ কাছে গিয়েও অধরা ডিলিমিটেশন! NDA র চালে বাড়া ভাতে ছাই সুপ্রিয়ার
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর প্রথমদিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই যৌতুকের চাপ বাড়তে থাকে। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার নাকি স্ত্রীকে বলতেন, “তোমার বাবা পুলিশের লোকের জামাইকে টাকা দিতে পারবে না?” আইনজীবী স্ত্রী দীর্ঘদিন সহ্য করার পর অবশেষে আইনের দ্বারস্থ হন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপে অনেক নারী সংগঠন স্বাগত জানিয়েছে।
বেঙ্গালুরু পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, তাহলে তাঁর পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে এই ঘটনায় পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, যাঁরা আইন রক্ষা করেন, তাঁরাই যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে সাধারণ নাগরিকরা কোথায় যাবেন?
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ সহ্য করার পর তিনি আর চুপ করে থাকতে চাননি।পুলিশের তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ঘরোয়া হিংসা আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত শুনানির পর তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ সীমান্তে নজরদারির নতুন অস্ত্র, স্যার ক্রিকে হাই-স্পিড কমব্যাট বোট নামাচ্ছে ভারত





