ইডি-র চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর অভিষেক! বোমা ফাটালেন মদন

কলকাতা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও আনুগত্যের দেওয়াল ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন মদন মিত্র। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তৃণমূলের সমস্ত…

কলকাতা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও আনুগত্যের দেওয়াল ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন মদন মিত্র। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন কামারহাটির এই বিধায়ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর মদনের এই ‘শিবির বদল’ রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল ধাক্কা।

মদন কেন ছাড়লেন মমতার সঙ্গ?

মমতার প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা থাকলেও, দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ মদন মিত্র। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে মদন বলেন, “অভিষেককে বলেছিলাম ৬ মাস বা ১ বছর দূরে চলে যেতে, যাতে দলটা আমরা আবার তৈরি করতে পারি। কিন্তু উনি রাজি হননি। অভিষেককে বাঁচানোর চক্করে গোটা দলকে মরতে দেওয়া হচ্ছে। দলের সেনাপতি যদি দলকে চালাতে না পারে, তবে সেই দল ভয়ের আবহে চলে।”

‘ইডি-র চেয়ে অভিষেক বেশি ভয়ঙ্কর’

শিবির বদলের নেপথ্যে এজেন্সির চাপ রয়েছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে মদন মিত্র তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। বরং বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক জীবন আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা। পরিবারকে ইডি ডেকেছে, তারা হাজিরা দেবে। কিন্তু ওই অভিষেককে দিয়ে বিজেপি-কে হারানো যাবে না। প্লেন থেকে নেমে হিটলারি কায়দায়, হুইসেল বাজিয়ে রাজনীতি হয় না। ইডি-র চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশি ভয়ঙ্কর!”

‘সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়া বেছে নিলাম’

তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপের সুরে মদন বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয় তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয় তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি সেই খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন এবং আগামী ২১ জুলাই তাঁদের কর্মসূচিতেই যোগ দেবেন।

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা

ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েটরা আগেই পথ বদলেছিলেন। সেই তালিকায় মদন মিত্রের নাম যুক্ত হওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড়সড়ো অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিশ্বস্ত’ সৈনিক হিসেবে পরিচিত মদনের এই বিদ্রোহের আঁচ কতদূর পৌঁছাবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

সব পদ থেকে ইস্তফা! মমতার হাত ছাড়লেন মদন মিত্র

কামদুনিকাণ্ডের ফাইল খোলার আর্জি, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ মৌসুমি-টুম্পা