কলকাতা: আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও উজ্জ্বল হল বাংলা সিনেমা (Bengali Cinema)। জার্মানির দুটি মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে বড় সম্মান পেল বাংলা ছবি ও শিল্পীরা। বার্লিনে অনুষ্ঠিত ইন্ডো-জার্মান ফিল্মউইক-এ অমিতাভ চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘রঙ্গ বিবাহ’ (Rango Bibaaho) জিতে নিল জুরি অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট ফিল্ম। অন্যদিকে, স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত ২৩তম ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ অভিনেতা অমর্ত্য রায় পেলেন ‘শুটিং স্টার’ সম্মান।
‘রঙ্গ বিবাহ’-এ অভিনয় করেছেন দেশা নন্দী, অমৃতা মুখোপাধ্যায়, পার্থ সারথি চন্দ্র এবং জগন্নাথ চক্রবর্তী। আধুনিক সমাজে প্রেম, বিয়ে এবং একাকীত্বের মতো বিষয়কে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরেছে এই সামাজিক কমেডি। পরিচালকের মতে, হাস্যরসের পাশাপাশি ছবিটি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকেও তুলে ধরেছে, যা জার্মানির দর্শক ও বিচারকদের মন জয় করেছে।
Also Read | শুধু সুপারস্টার নন, উদার মনেও ‘কিং’ শাহরুখ! ফারাহর অজানা গল্প ভাইরাল
অন্যদিকে, পরিচালক চৈতি ঘোষাল-এর ছবি ‘নেভারমাইন্ড’-এ অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন অমর্ত্য রায়। ছবিতে তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের এক বারের পটভূমিতে দুই অচেনা মানুষের আকস্মিক সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে অতীতের নানা স্তর উন্মোচিত হয়েছে এই ছবিতে।
শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, পরিচালক এবং গীতিকার হিসেবেও অমর্ত্য রায় নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ময়দান’, ‘২২ ইয়ার্ডস’, ‘উড়নচণ্ডী’, পাশাপাশি ‘ধুলো’, ‘Portraits: 2020’ এবং ‘Our Mountain Valley Home’-এর মতো নির্মাণ। এছাড়া ‘নেভারমাইন্ড’-এর সহযোগী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
Also Read | ভাইরাল কিসিং কাণ্ডে নতুন মোড়, কঙ্গনা সম্পর্কে কী বললেন বীর দাস?
স্টুটগার্ট চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক অমর্ত্য রায়কে পাঠানো ই-মেলে তাঁর ‘নেভারমাইন্ড’-এ অভিনয়ের বিশেষ প্রশংসা করেন। পরিচালক চৈতি ঘোষালের কথায়, উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি অমর্ত্যের ব্যক্তিত্ব ও পর্দায় উপস্থিতিও এই সম্মান পাওয়ার অন্যতম কারণ।
আগামী ২৩ জুলাই ‘নেভারমাইন্ড’-এর টিম জার্মানির উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানেই অমর্ত্য রায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শুটিং স্টার’ সম্মান গ্রহণ করবেন। একই সফরে তাঁর নতুন তথ্যচিত্র ‘You in this city, this city inside you’-ও প্রদর্শিত হবে। ছবিটির বিশেষ স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুলাই স্টুটগার্টে।
এই সম্মান প্রসঙ্গে অমর্ত্য রায় বলেন, “প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখে যাঁরা কেঁদেছেন, জড়িয়ে ধরেছেন এবং আশীর্বাদ করেছেন, সেই অজানা দর্শকদেরই আমি এই সম্মান উৎসর্গ করতে চাই।”
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলা সিনেমার এই সাফল্য শুধু নির্মাতা ও শিল্পীদেরই নয়, গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।




