মহাকাশে চিনি? প্রাণের উৎপত্তির এক মিষ্টি সূত্র খুঁজে পেলেন র্বিজ্ঞানীরা

Sugar in space: মহাবিশ্বে কি আমরাই একমাত্র প্রাণী, নাকি পৃথিবীর বাইরেও কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে? শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা…

Sugar in space: মহাবিশ্বে কি আমরাই একমাত্র প্রাণী, নাকি পৃথিবীর বাইরেও কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে? শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে আসছে। এখন বিজ্ঞানীরা এই অনুসন্ধানে এক অভাবনীয় ও চমকপ্রদ সাফল্য পেয়েছেন। মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে গবেষকরা নক্ষত্রমণ্ডলীদের মধ্যবর্তী বিশাল ও শূন্য স্থানে এক বিশেষ ধরনের শর্করা বা চিনির সন্ধান পেয়েছেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই একই শর্করা পৃথিবীতে রাস্পবেরি ফল এবং ত্বককে কৃত্রিমভাবে কালচে বা তামাটে করার প্রসাধনীতেও (সেলফ-ট্যানিং পণ্য) পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানের জগতে এটি ‘এরিথ্রুলোজ’ (erythrulose) নামে পরিচিত। এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ চিনি কেবল চা মিষ্টি করতে বা ডোনাটের ওপর ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেই ব্যবহৃত হয় না; এটি আমাদের শরীরের কোষগুলোকে শক্তিও জোগায় এবং আমাদের ডিএনএ (DNA)-র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই আবিষ্কার বিষয়ক একটি প্রতিবেদন *নেচার অ্যাস্ট্রোনমি* (Nature Astronomy) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

স্পেনের দুটি বিশাল রেডিও টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য
স্পেনে অবস্থিত দুটি বিশাল ডিশ-আকৃতির রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গবেষকরা আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত একটি বিশাল গ্যাসীয় মেঘ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর বিজ্ঞানীরা মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত সংকেতগুলোর সাথে গবেষণাগারের নমুনার তুলনা করে এই গ্যাসীয় শর্করার উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। পৃথিবী থেকে পাঠানো মানুষের তৈরি সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তু—নাসার যমজ ভয়েজার মহাকাশযান দুটি—যে অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছিল, ঠিক সেই অঞ্চলেই এই আবিষ্কারটি করা হয়েছে।

তাহলে, পৃথিবীতে কি প্রাণের উৎপত্তি মহাকাশে হয়েছিল?
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী এরিকা হ্যামডেনের মতে, মহাকাশে আবিষ্কৃত শর্করাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম জটিল একটি শর্করা। যদিও এই শর্করাটি সরাসরি প্রাণের জন্য অপরিহার্য নয়, তবে এটি খুব সহজেই এমন এক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে যা পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

এই আবিষ্কারটি পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির বিষয়ে দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে: প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো কি উল্কাপিণ্ড বা ধূমকেতুর মাধ্যমে মহাকাশ থেকে এসেছিল, নাকি সৌরজগৎ গঠনের সময় থেকেই সেগুলো এখানে বিদ্যমান ছিল? এই নতুন ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মহাকাশের মেঘপুঞ্জে আগে থেকেই ভাসমান অবস্থায় ছিল।
সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার সাথে যুক্ত গবেষক ইজাসকুন হিমেনেজ-সেরা জানিয়েছেন যে, এই আবিষ্কার এমন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে যে আমাদের গ্যালাক্সির অন্যান্য অংশেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর অস্তিত্ব থাকতে পারে। এর অর্থ হলো, মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের বিকাশ ঘটা সম্ভব।