গেরুয়া রাজ্যে জাল নথি নিয়ে পুলিশের হেফাজতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

rishikesh-bangladeshi-woman-fake-documents-arrest

রিশিকেশ: উত্তরাখণ্ডের পবিত্র শহর হৃষিকেশে রুটিন চেকিং অভিযানে এক বাংলাদেশি নারীকে জাল নথি সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। (Bangladeshi)অভিযুক্তের নাম রিনা (ছদ্মনাম রিতা), বাংলাদেশের ঢাকার শরিয়তপুর জেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, সে ভারতে অবৈধভাবে থাকার জন্য জাল আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভারতীয় পাসপোর্টসহ একাধিক নথি ব্যবহার করছিল। ঘটনাটি উত্তরাখণ্ড পুলিশের ‘অপারেশন প্রহর’-এর অংশ হিসেবে সামনে এসেছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হৃষিকেশের একটি এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপের খবর পেয়ে পুলিশ টিম রুটিন যাচাই অভিযান চালায়। সেখানে রিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একগুচ্ছ জাল ভারতীয় নথি। পুলিশ বলছে, সে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে থেকে জাল পরিচয়ে জীবনযাপন করছিল।

   

আরও দেখুনঃ বালিতে রোড শো-তে বিশৃঙ্খলা, হুড খোলা গাড়ি থেকে চিৎকার শুভেন্দুর

তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি ও বিদেশি আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।রিনা (রিতা) কীভাবে ভারতে ঢুকল এবং কার সহায়তায় জাল নথি তৈরি করল তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সে হয়তো অনলাইনের মাধ্যমে কোনো স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে জাল নথি তৈরি করিয়েছে। উত্তরাখণ্ড পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “এই ধরনের জালিয়াতি শুধু নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, স্থানীয় সমাজেও প্রভাব ফেলে।

আমরা পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন করার চেষ্টা করছি।”এই গ্রেফতার উত্তরাখণ্ডের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, গেরুয়া রাজ্য হিসেবে পরিচিত উত্তরাখণ্ডে ধর্মীয় পর্যটনের কারণে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা বেড়েছে। হৃষিকেশের ও হরিদ্বারের মতো জায়গায় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ জাল পরিচয়ে থেকে যাচ্ছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা তো গঙ্গার তীরে শান্তিতে থাকতে চাই।

কিন্তু এমন ঘটনা শুনলে ভয় হয়। পুলিশ যদি সতর্ক না থাকে, তাহলে সমস্যা বাড়বে।”উত্তরাখণ্ড পুলিশের ‘অপারেশন প্রহর’ চলছে। এর আওতায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে যদি কোনো স্থানীয় সহযোগী জড়িত থাকে, তাদেরও চিহ্নিত করা হবে। ইতিমধ্যে তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন রাজ্যে এমন অনেক ঘটনা সামনে এসেছে। উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যেও যে এই সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে, তা চিন্তার বিষয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাল নথি তৈরির সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে।