
নয়াদিল্লি: হিজাবি প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের (Owaisi)ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে বিতর্কে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্য “আমি নিশ্চিত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র একজন হিন্দুই হবেন” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করলেন AIMIM প্রধান তথা সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।
তাঁর কড়া ভাষার প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে। গতকালই ওআইসি মন্তব্য করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন একজন হিজাব পরিহিত মহিলা। এই প্রতিক্রিয়াতেই অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি তরজাতে জড়ালেন মিম প্রধান।
রো-কো জুটির প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ভারতের একাদশে বিরাট চমক, নেই তারকা পেসার
এক সাংবাদিক বৈঠকে ওয়েইসি বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মানসিকভাবে “টিউবলাইট”। তাঁর মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানের শপথ নেওয়ার পর এমন মন্তব্য করতে পারেন কীভাবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ওয়েইসির কথায়, “তিনি কি আদৌ জানেন সংবিধানে কী লেখা আছে? নাকি সংবিধানের আত্মাটাই তিনি বোঝেন না?”
ওয়েইসি আরও একধাপ এগিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মানসিকতার তুলনা টানেন পাকিস্তানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সংবিধানে লেখা আছে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষই সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। কিন্তু ভারত সেই পথ নেয়নি। আমাদের সংবিধান লিখেছিলেন বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর, যিনি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার তুলনায় বহু গুণ বেশি জ্ঞানী ও দূরদর্শী ছিলেন।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে ওয়েইসি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত কোনও একটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের দেশ নয়। এই দেশের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যই হল এখানে সব ধর্মের মানুষ যেমন জায়গা পান, তেমনই যাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, তাঁরাও সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারেন। “এই বহুত্ববাদই ভারতের শক্তি,” বলেন ওয়েইসি।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যকে ‘সংকীর্ণ’ ও ‘ছোট মানসিকতার প্রকাশ’ বলে আক্রমণ করে AIMIM প্রধান বলেন, এই ধরনের বক্তব্য দেশের সামাজিক ঐক্যের জন্য বিপজ্জনক। তাঁর মতে, সংবিধানের মর্ম না বুঝেই কিছু নেতা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এ ধরনের কথা বলেন, যা ভবিষ্যতে বিভাজনের রাজনীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন হিজাব, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। একদিকে হিজাব পরা নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে দেশের শীর্ষ পদে কে বসতে পারবেন এই প্রশ্নে ধর্ম টেনে আনা, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্য আসলে বিজেপির কট্টর ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট করার একটি প্রয়াস। অন্যদিকে, ওয়েইসির পাল্টা আক্রমণ সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিরোধী শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা বলেই দেখছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, এই বিতর্ক শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত বাকযুদ্ধ নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ধর্ম, সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে এই মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।










