কথা রেখেছে নয়াদিল্লি! রুশ তেল ইস্যুতে ভারতের ভূয়সী প্রশংসায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি

নয়াদিল্লি: রুশ তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ভারতের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট। ভারতের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি নয়াদিল্লিকে “খুব ভালো পারফর্মার” হিসেবে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
India Russian Oil Sanctions

নয়াদিল্লি: রুশ তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ভারতের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট। ভারতের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি নয়াদিল্লিকে “খুব ভালো পারফর্মার” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত রুশ অপরিশোধিত তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করতে পারে ওয়াশিংটন।

ভারতের ভূমিকা এবং মার্কিন ছাড়

ফক্স বিজনেসের ‘কাডলো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট জানান, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই ভারতকে মাঝসমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। এমনকি আগামীতে আরও বেশ কিছু ব্যারেল তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে। বেসেন্ট বলেন, “ভারতীয়রা খুব দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। আমরা এই শরতে তাদের নিষেধাজ্ঞাযুক্ত রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলাম, এবং তারা আমাদের কথা রেখেছিল।” অর্থাৎ, অস্থায়ীভাবে ছাড় পাওয়ার আগে নয়াদিল্লি যে মার্কিন অনুরোধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল, তা স্পষ্ট করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি।

   

বিকল্প মার্কিন তেলের বদলে রুশ তেলেই সম্মতি India Russian Oil Sanctions

বেসেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতের পরিকল্পনা ছিল রাশিয়ার তেলের ঘাটতি মেটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি করা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তেলের জোগানে যাতে হঠাৎ করে কোনও স্বল্পমেয়াদী ঘাটতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই মাঝসমুদ্রে জাহাজে আটকে থাকা রুশ ক্রুড কেনার অনুমতি ভারতকে দেয় ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, “তারা মার্কিন তেল দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল, কিন্তু বিশ্বজুড়ে তেলের অস্থায়ী ঘাটতি সামাল দিতেই আমরা তাদের আটকে থাকা রুশ তেল গ্রহণের অনুমতি দিয়েছি।”

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত ও বিশ্ব বাজারে প্রভাব

বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার জেরে বিশ্ব বাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় তেলের জোগানে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই আমেরিকার এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। বেসেন্ট আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে বাজারে আরও তেলের জোগান বাড়াতে ওয়াশিংটন অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা অন্যান্য রুশ তেলের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবতে পারি।”

হু হু করে বাড়ছে মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম

অন্যদিকে, ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের জোগানে টান পড়ায় শুক্রবার একলাফে অনেকটাই বেড়েছে মার্কিন উপসাগরীয় ভারী অপরিশোধিত তেলের দাম। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে ক্রেতারা এখন মার্কিন তেলের দিকেই বেশি করে ঝুঁকছেন। মেক্সিকো উপসাগরে উৎপাদিত বেঞ্চমার্ক ‘মার্স সাওয়ার ক্রুড’ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর তুলনায় ১১ ডলার প্রিমিয়ামে লেনদেন হয়েছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের পর সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে ব্যাঘাত এবং বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশের উৎপাদন কমানোর ফলে শোধনাগারগুলি বাধ্য হয়েই বিকল্প তেলের খোঁজ করছে। আর তার জেরেই বিশ্ববাজারে মার্কিন তেলের চাহিদা ও দাম এতটা বেড়ে গিয়েছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।