ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের বিদেশ নীতির সমালোচনা করে আলোচনার কেন্দ্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট (Tony Abbott)। তিনি মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত যে বড় ভুলগুলির একটি করেছেন, ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
tony-abbott-criticises-donald-trump-india-relations

ট্রাম্পের বিদেশ নীতির সমালোচনা করে আলোচনার কেন্দ্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট (Tony Abbott)। তিনি মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত যে বড় ভুলগুলির একটি করেছেন, তা হল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোর ক্ষেত্রে তার নীতি। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাবট স্পষ্ট ভাষায় জানান, ট্রাম্পের কয়েকটি পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে নয়াদিল্লিকে বিরক্ত করেছে এবং এতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

অ্যাবট বলেন, তিনি ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির অন্ধ সমর্থক নন। বরং তার মতে, তিনটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ককে অকারণে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রথমত, ভারতীয় পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ। দ্বিতীয়ত, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার দাবি। আর তৃতীয়ত, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো।

   

আরও দেখুনঃ কথা রেখেছে নয়াদিল্লি! রুশ তেল ইস্যুতে ভারতের ভূয়সী প্রশংসায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি

অ্যাবটের বক্তব্য, এই ঘটনাগুলি ভারতের কাছে খুবই সংবেদনশীল ছিল। বিশেষ করে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে দিল্লির দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, পাকিস্তান বহু বছর ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমনভাবে সম্মান জানানো ভারতের কাছে অস্বস্তিকর হওয়াটাই স্বাভাবিক।

তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেও কিছুটা ইতিবাচক দিকও দেখা গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক কমানো হয়। এর আগে মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছিল। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মস্কোকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে। কিন্তু নতুন বাণিজ্য চুক্তির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। ট্রাম্প জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কয়েক মাস ধরে চলা বাণিজ্যিক উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।

এই সাক্ষাৎকারে অ্যাবট মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাত এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি সতর্ক মন্তব্য করেন। তার মতে, তেহরানে শাসন পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি এখনও দেশের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে। তবে অ্যাবট মনে করেন, এই সংঘাতের ফলাফল যাই হোক না কেন, ইরানের আগ্রাসী সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা আগের মতো থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসার সম্ভাবনাই বেশি। ইতিমধ্যেই ইরানের হামলার মাত্রা কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের মাত্রা বেড়েছে। অ্যাবটের দাবি, এই হামলাগুলি মূলত ইরানের শাসনব্যবস্থার সামরিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই করা হচ্ছে, সাধারণ অর্থনৈতিক বা সামাজিক কাঠামোকে নয়।

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলের দিকে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও হামলার খবর পাওয়া যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরিন এবং সৌদি আরব এই হামলার কথা জানিয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.