নয়াদিল্লি: আগামী তিন দিন সংসদের অধিবেশন রীতিমতো সরগরম থাকতে চলেছে। কেন্দ্রে শাসক দলের তরফে সংসদে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বিলগুলি আনা জরুরি। অন্যদিকে, এই বিলগুলির সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিরোধী শিবির।
কী থাকছে এই তিনটি বিলে?
সরকার যে তিনটি বিল আনতে চলেছে, তার মূল লক্ষ্য হল লোকসভা ও বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন।
প্রথম বিল (সংবিধান সংশোধনী বিল ১০৭/২০২৬): লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে (রাজ্যগুলি থেকে ৮১৫ জন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৩৫ জন)। পাশাপাশি জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিধানসভার আসনও পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিল: ডিলিমিটেশনের সুবিধার্থে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, জম্মু ও কাশ্মীর এবং দিল্লি পুনর্গঠন আইনে বদল আনা।
তৃতীয় বিল: আসন পুনর্বিন্যাসের গোটা প্রক্রিয়াটি পরিচালনার জন্য একটি ‘ডিলিমিটেশন কমিশন’ গঠন করা।
মহিলা সংরক্ষণ কি এখনই কার্যকর হচ্ছে? India Delimitation Bills
এক কথায় উত্তর হল, না। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হবে। এবং এই সংরক্ষণ ১৫ বছরের জন্য বহাল থাকবে। বিরোধীদের দাবি, সংরক্ষণের সঙ্গে ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দিয়ে অকারণে সময় নষ্ট করছে সরকার। অবিলম্বে এই দুই বিষয়কে আলাদা করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
দক্ষিণের রাজ্যগুলির কেন এত ক্ষোভ?
সবথেকে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে আসন পুনর্বিন্যাসের মাপকাঠি নিয়ে। ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে বর্তমানে আসন সংখ্যা স্থির রয়েছে। কিন্তু নতুন বিলে সেই নিয়ম তুলে দিয়ে নতুন জনগণনার ভিত্তিতে আসন ভাগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের, বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন ভাগ হলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, দক্ষিণের রাজ্যগুলি সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, অন্যদিকে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা বেড়েছে। ফলে আসন পুনর্বিন্যাস হলে সংসদে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিরোধী শিবির মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও ডিলিমিটেশনের তীব্র বিরোধিতা করবে। সব মিলিয়ে বিলগুলি ঘিরে সংসদে তুমুল তরজার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।




















