WB Assembly Election: লৌহকপাট মুক্ত বিজেপির রাকেশ সিং কঠিন করছেন ‘মমতা-প্রিয়’ ববির লড়াই

রানা দাস, কলকাতা: অন্তর্বতী জামিনে লৌহকপাটের বাইরে এসেই রীতিমতো পুরো ফর্মে বিজেপির বিতর্কিত নেতা রাকেশ সিং৷ ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’, এই শপথ নিয়েই…

rakesh-singh-bjp-kolkata-port-WB Assembly Election-firhad-hakim-contest

রানা দাস, কলকাতা: অন্তর্বতী জামিনে লৌহকপাটের বাইরে এসেই রীতিমতো পুরো ফর্মে বিজেপির বিতর্কিত নেতা রাকেশ সিং৷ ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’, এই শপথ নিয়েই বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে ‘মমতা প্রিয়’ তৃণমূল প্রার্থী ববির (ফিরহাদ হাকিম) লড়াইকে কঠিন করে তুলেছেন৷

বিজেপি রাকেশকে কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে। যদিও এই কেন্দ্রের জনসংখ্যাগত গঠনের কারণে জয়লাভ করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়, তবুও বিজেপি এই সময়ে রাকেশ সিংকে কলকাতার রাজনীতিতে সক্রিয় রাখতে চায়।

   

রাকেশ সিংহের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

রাকেশ সিং সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তারপরই বিজেপি তাঁকে কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ঘোষণা করে। তিনি এখন পূর্ণ উদ্যমে দলের হয়ে কাজ করছেন।

বিজেপি নেতৃত্ব মনে করে, রাকেশ সিংহের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় যোগাযোগ কলকাতার রাজনীতিতে দলকে সাহায্য করবে। তিনি আগে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৬ সালে একই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বাস্তবতা

কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রটি দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত। এখানকার জনসংখ্যাগত কাঠামোর কারণে এই আসনে জয় পাওয়া খুবই কঠিন বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন ধরে জয়ী হয়ে আসছেন।

তবুও বিজেপি রাকেশ সিংকে এই কেন্দ্রে মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের কৌশল অনুসারে, তাঁকে এই সময়ে কলকাতার রাজনীতিতে সক্রিয় রাখা দরকার। রাকেশ সিংহের উপস্থিতি দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এনেছেন এবং দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।

বিজেপির কলকাতা কেন্দ্রিক পরিকল্পনা

বিজেপি নেতারা মনে করেন, রাকেশ সিংকে এই পর্যায়ে কলকাতা পোর্টে রাখলে দলের সামগ্রিক কৌশলে সুবিধা হবে। যদিও জয়ের সম্ভাবনা কম, তবুও তাঁর সক্রিয়তা কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় দলের বার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।

রাকেশ সিং নিজে এখন পুরোদমে প্রচারে নেমেছেন। তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন এবং দলের হয়ে কাজ করছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বিজেপির রাজ্যস্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং তাৎপর্য

রাকেশ সিংহের প্রার্থীপদ ঘোষণার পর কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে রাজনৈতিক আলোচনা বেড়েছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত অবস্থানের বিপরীতে বিজেপি কীভাবে লড়াই করবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

বিজেপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কলকাতার রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে চায়। রাকেশ সিংকে পূর্ণ ফর্মে ফিরিয়ে আনা সেই লক্ষ্যেরই একটি অংশ। দল মনে করে যে তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতাকে এই সময়ে সামনে রাখলে কলকাতায় দলের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কলকাতা পোর্টের মতো কঠিন কেন্দ্রেও প্রার্থী দেওয়া বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। রাকেশ সিংহের সক্রিয়তা দেখে বোঝা যাচ্ছে, তিনি দলের হয়ে পুরো শক্তি দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।

এই সিদ্ধান্তের ফলে কলকাতার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন গতি আসতে পারে। বিজেপি কীভাবে এই কেন্দ্রে প্রচার চালায় এবং রাকেশ সিং কতটা জনসমর্থন গড়ে তুলতে পারেন, সেদিকে সবার নজর রয়েছে।

রাকেশ সিংহের এই প্রত্যাবর্তন দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিজেপি কলকাতার রাজনীতিতে ছাড় দেওয়ার পক্ষে নয়। যদিও জয় কঠিন, তবুও দল তাঁকে এই সময়ে সক্রিয় রাখতে চায়। এই পদক্ষেপ রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।