নয়াদিল্লি: ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা কর্মসূচির অন্যতম গর্ব ‘তেজস’ (HAL)যুদ্ধবিমানের উৎপাদনে বারবার বিলম্বের জেরে এবার হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এখনও পর্যন্ত একটিও তেজস এমকে-১এ বিমান আইএএফ-এর হাতে তুলে দিতে পারেনি HAL।
এই বিলম্বকে ‘গুরুতর উদ্বেগের’ বিষয় বলে মনে করছে সরকার, যা দেশের স্বদেশী যুদ্ধবিমান কর্মসূচির ভবিষ্যতকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।২০২১ সালে স্বাক্ষরিত প্রায় ৪৮,০০০ কোটি টাকার চুক্তিতে HAL-কে ৮৩টি তেজস এমকে-১এ (৭৩টি একক আসনের ও ১০টি প্রশিক্ষণ বিমান) সরবরাহ করার কথা ছিল। পরবর্তীতে আরও ৯৭টি বিমানের চুক্তি হয়েছে।
মোট ১৮০টি বিমানের এই বড় অর্ডার পূরণ করতে HAL-কে সময়মতো কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূল ডেলিভারির সময়সীমা ২০২৪ সালের প্রথম দিকে থাকলেও এখনও শূন্য ডেলিভারি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি অনুসারে লিকুইডেটেড ড্যামেজেস (LD) বা জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা এখন সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েই হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক সুস্মিতার! যোগ দেবেন বিজেপিতে?
HAL-এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রধান সমস্যা জিই অ্যারোস্পেস থেকে এফ৪০৪-আইএন২০ ইঞ্জিনের সরবরাহে বিলম্ব। কয়েকটি এয়ারফ্রেম তৈরি হয়ে গেলেও ইঞ্জিন না আসায় বিমানগুলো মাটিতেই আটকে আছে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে, শুধু বাইরের সাপ্লায়ারের ওপর দোষ চাপিয়ে দিলে চলবে না। উৎপাদন প্রক্রিয়া, সার্টিফিকেশন, ইন্টিগ্রেশন সবকিছুতেই আরও দ্রুততা ও জবাবদিহিতা দরকার।
সরকার আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১৮ থেকে ২৪টি তেজস এমকে-১এ প্রস্তুত করতে পারবে HAL, যদি সব বাধা দূর হয়। কিন্তু বারবার মিসড ডেডলাইনের কারণে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।এই ঘটনা ভারতের আত্মনির্ভর ভারত (আত্মনির্ভরতা) প্রতিরক্ষা লক্ষ্যের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
তেজস প্রকল্প শুরু হয়েছিল অনেক আগে, কিন্তু বাস্তবে সংখ্যায় খুব কম বিমান আইএএফ-এর বহরে যোগ হয়েছে। বর্তমানে আইএএফ-এর স্কোয়াড্রন সংখ্যা কমে যাওয়ায় আধুনিক যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন আরও জরুরি হয়ে পড়েছে। চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বদেশী বিমানের উৎপাদন ত্বরান্বিত করা ছাড়া উপায় নেই। রাফালের মতো বিদেশি বিমান কেনার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনকে শক্তিশালী করতে হবে।




















