
নয়াদিল্লির: ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে আচমকাই উঠে এল এক অভিনব নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সংক্ষেপে CJP (Cockroach Janta Party)। নিজেদের একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই নতুন সংগঠন ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সদস্যসংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করেছে দলটি। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পরিচিত সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ প্রকাশ্যে এই সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
CJP-র সূচনা করেছেন অভিজিৎ ডিপ নামে এক তরুণ, যিনি বর্তমানে আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন। অতীতে তিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই এই রাজনৈতিক-ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। দলের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিবাদ হিসেবেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র জন্ম।
আরও দেখুনঃ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চাকদহ! টিনের চাল উড়ে বিধ্বস্ত ৪০টি পরিবার
গত সপ্তাহে একটি মামলার শুনানির সময় কর্মহীন ও বেকার যুবকদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড় ওঠে। অভিযোগ, তিনি বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পাশাপাশি, কোথাও সুযোগ না পেলে যুবকরা সাংবাদিকতা, সমাজকর্ম বা আইন পেশায় চলে যান বলেও মন্তব্য করেন বলে দাবি ওঠে। যদিও পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সেগুলি ছিল মৌখিক পর্যবেক্ষণ এবং তার ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি।
এই পরিস্থিতিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে CJP। দলের নামের মধ্যেই রয়েছে ব্যঙ্গের সুর। আরশোলাকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে তারা জানাতে চেয়েছে, সমাজের তথাকথিত ‘অবাঞ্ছিত’ মানুষরাও নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন। অনেকেই গায়ে আরশোলার ছবি এঁটে প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, তাঁকে যখন ‘দেশদ্রোহী পার্টির সদস্য’ বলা হচ্ছে, তখন CJP-তে যোগ দিতেই পারেন। জবাবে তাঁকে ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানায় সংগঠনটি। অন্যদিকে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সাংসদ কীর্তি আজাদ মজার ছলে জানতে চান, “এই দলে যোগ দিতে কী যোগ্যতা লাগে?” উত্তরে CJP-র তরফে বলা হয়, “১৯৮০ সালের বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট।”
দলটি নিজেদের “ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস” রাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করেছে। ইতিমধ্যেই পাঁচ দফার ইস্তেহারও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে অবসরের পরে প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভায় যাওয়া নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদে ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ, দলবদল করা জনপ্রতিনিধিদের ২০ বছর নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা, CBSE-র নম্বর পুনর্মূল্যায়নে অতিরিক্ত ফি বন্ধ এবং NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিষয়ও রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে যুবসমাজকে টার্গেট করে তাদের প্রচার। CJP জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই Gen-Z প্রজন্মকে নিয়ে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। দলে যোগ দেওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে বেকার বা অলস হতে হবে, অনলাইনে সক্রিয় থাকতে হবে এবং পেশাদারের মতো অভিযোগ করতে জানতে হবে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ২১০০-র বেশি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকটি জাতীয় বা আঞ্চলিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে CJP আদৌ আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, নাকি শুধুই ডিজিটাল প্রতিবাদের নতুন ভাষা হয়ে থাকবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই যে তারা তরুণদের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

