ঘুষ নিলেই যাবে চাকরি! গেরুয়া রাজ্যের নয়া বিধান

হরিয়ানা: ঘুষ নিলেই চাকরি যাবে আর কোনও তদন্তের অপেক্ষা নয় (Zero-Tolerance Policy)। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কড়া বার্তাই দিল গেরুয়া রাজ্য হরিয়ানা। রাজ্যের পুলিশপ্রধান (ডিজিপি) ও পি সিং এক ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
haryana-zero-tolerance-bribery-policy-2025

হরিয়ানা: ঘুষ নিলেই চাকরি যাবে আর কোনও তদন্তের অপেক্ষা নয় (Zero-Tolerance Policy)। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কড়া বার্তাই দিল গেরুয়া রাজ্য হরিয়ানা। রাজ্যের পুলিশপ্রধান (ডিজিপি) ও পি সিং এক ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও সরকারি কর্মী যদি ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। এই ক্ষেত্রে আর কোনও বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন হবে না। সংবিধানের ৩১১(২) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করেই তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া হবে এই পদক্ষেপ।

হরিয়ানার সব জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং কমিশনার অব পুলিশ (CP)-দের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কেউ ধরা পড়লেই দেরি না করে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। ডিজিপির এই নির্দেশে প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে। এতদিন পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চলত, যা বছরের পর বছর গড়াত। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত কর্মীরা শাস্তির হাত এড়িয়ে যেতেন। এবার সেই ফাঁক বন্ধ করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত।

   

২ পুত্র-সহ পরিবারের সদস্যদের হিয়ারিংয়ে ডাকা, ক্ষোভ উগরে দিলেন কাকলি

রাজ্য পুলিশের শীর্ষ সূত্রে খবর, ২০২৫ সাল শুরু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত হরিয়ানার স্টেট ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো মোট ১০৫টি দুর্নীতির মামলা নথিভুক্ত করেছে। এই মামলাগুলিতে গ্রেফতার হয়েছেন ১৪১ জন সরকারি কর্মচারী। তালিকায় রয়েছেন ক্লাস-১ আধিকারিক থেকে শুরু করে ক্লাস-৪ কর্মচারী পর্যন্ত। অর্থাৎ, উচ্চপদস্থ অফিসার থেকে নিচুতলার কর্মী কেউই ছাড় পাচ্ছেন না।

হরিয়ানার প্রশাসনের বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ শুধু স্লোগান নয়, এবার তা বাস্তবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। ডিজিপি ও পি সিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি দপ্তরে কাজ করাতে গিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য না হন, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “যেমন বপন করবেন, তেমনই ফল পাবেন” এই নীতিতেই চলবে প্রশাসন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৩১১(২) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সরাসরি বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোনও সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং তদন্ত চালানো ‘রাষ্ট্রের স্বার্থে অনুচিত’ বলে মনে হয়, তবে বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই তাঁকে বরখাস্ত করা যায়। ঘুষ নেওয়ার মতো অপরাধকে সেই গুরুতর অপরাধের তালিকায় কার্যত শীর্ষে তুলে আনল হরিয়ানা সরকার।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বহু নাগরিকের মতে, সরকারি অফিসে কাজ করাতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার যন্ত্রণা তাঁদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। এবার যদি সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, তাহলে প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থা বাড়বে। একইসঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও যাবে কড়া বার্তা দুর্নীতির পথে পা বাড়ালেই ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

তবে কিছু মহলের প্রশ্ন, এত দ্রুত বরখাস্তের সিদ্ধান্তে ভুলের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে কি না। প্রশাসনের পাল্টা যুক্তি, ‘হাতেনাতে ধরা পড়া’ মানেই প্রমাণ যথেষ্ট শক্ত। তাই দেরি না করে শাস্তি দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত। সব মিলিয়ে, হরিয়ানার এই সিদ্ধান্ত রাজনীতির ময়দানেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্য রাজ্যগুলিও কি এবার একই পথে হাঁটবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে আপাতত হরিয়ানা স্পষ্ট করে দিয়েছে ঘুষ নিলে আর রেহাই নেই।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google