তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতার আবহে নতুন করে চাপে (Iran Oil Import)পড়েছে ভারতের জ্বালানি কৌশল। আমেরিকা কিছুটা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও, ইরান থেকে তেল আমদানি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের একাধিক সংস্থা ইরানের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার আগ্রহ দেখালেও, শেষ পর্যন্ত সেই আশা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।
সম্প্রতি আমেরিকা-র ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দেন যে সমুদ্রপথে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও দেখুনঃ সম্প্রীতি বজায় রাখতে তৎপর প্রশাসন, ঈদে মসজিদে নজরদারি ও বুথ পরিদর্শন
এই ঘোষণার পরই আশার আলো দেখেছিল ভারতীয় শোধনাগারগুলি। কারণ ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ তেল আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। ফলে ইরান থেকে তেল আমদানির সুযোগ তৈরি হলে তা দেশের জ্বালানি সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারত।
কিন্তু সেই আশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে ইরান নিজেই। ইরানের তেল মন্ত্রকের মুখপাত্র সামন গোড্ডুসি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল তাদের হাতে নেই। তাঁর কথায়, “না ভাসমান অবস্থায়, না মজুত হিসেবে কোথাও অতিরিক্ত তেল নেই যা রফতানি করা সম্ভব।” তিনি আরও দাবি করেন, আমেরিকার মন্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে আশা জাগানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
এই অবস্থায় ভারতের তেল আমদানির কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় পেয়েছে ভারত। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এক মাসের জন্য আমেরিকার তরফে অনুমতি দেওয়া হয়েছে মস্কো থেকে তেল কেনার। তবে আগের মতো বড় ছাড়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে খরচ বেড়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক ছিল। ২০১৮ সালে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগে পর্যন্ত ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা ছিল ভারত। কিন্তু সেই সম্পর্কেও ভাটা পড়ে নিষেধাজ্ঞার কারণে। এরপর ভারত বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছিল। এখন আবার নতুন করে সেই ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে গোটা বিষয়টি। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের দামে, যার ধাক্কা এসে লাগছে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ একদিকে বাড়তে থাকা তেলের দাম সামলানো, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করা। ইরান থেকে তেল আমদানি সম্ভব না হলে, বিকল্প উৎসের উপর নির্ভরতা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




















