কলকাতা: গ্রেফতারির বিরুদ্ধে এবার হাই কোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করলেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। (Sujit Bose moves High Court against ED arrest)
ভোটের নোটিস থেকে মে মাসের গ্রেফতারি
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির কড়া স্ক্যানারে ছিলেন সুজিত বসু। গত ৬ এপ্রিল, যখন বিধানসভা ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন থেকেই দফায় দফায় ইডির দরবারে হাজিরার নোটিস পেতে থাকেন তিনি। সেই সময় নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুজিত বাবু। আদালতের রক্ষাকবচ মেলায় ভোট চলাকালীন হাজিরা এড়াতে পারলেও, ভোট মিটতেই ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বাধ্য হন তিনি। তাঁর বাড়ি ও অফিসেও ম্যারাথন তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। এরপর গত ১১ মে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের শেষে ইডি আধিকারিকরা সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেন।
‘শতাধিক বেআইনি সুপারিশ, মোটা টাকার খেলা!’ দাবি ইডির
সুজিত বসু আদালতের দ্বারস্থ হলেও তদন্তের গতি এতটুকু কমাতে নারাজ ইডি আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সুজিত বসু মন্ত্রী ও পুরসভার দায়িত্বে থাকাকালীন দমদম পুরসভায় শতাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সুপারিশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও লেনদেন করা হয়েছিল। এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের মূল উৎস ও গতিপথ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই সুজিত বসুর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির খতিয়ান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জমানা বদলের পর নিয়োগ দুর্নীতির এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সুজিত বসুর এই আইনি চাল কতটা কার্যকর হয় এবং শুক্রবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের এজলাস থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী কোনও স্বস্তি পান কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহল।



















