নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন কমিশন স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় (12.7 Lakh Verification)চিহ্নিত ১২.৭ লক্ষ ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের আওতায় ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরও) ও ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরআরও)-এর কাছে পাঠাবে। এই ব্যক্তিদের ‘অন্যান্য’ (Others) শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে এবং তাদেরকে ‘সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ১৩টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সন্দেহভাজন নাগরিকত্বের ক্ষেত্রগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। এই রায়ের পর ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই তালিকা দ্রুত পাঠাবে। যাচাইয়ের পর যদি কারও নাগরিকত্ব প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যথায় আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও দেখুনঃ বৈভবকে থামাতে গুজরাতের মাস্টারপ্ল্যান! পাখির চোখ ফাইনালের টিকিট
এসআইআর প্রক্রিয়ায় এএসডিডি (Absent, Shifted, Dead, Duplicate) শ্রেণির ৬.৫ কোটিরও বেশি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফর্ম-৭ এবং অন্যান্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আরও ৬৩.২ লাখ নাম কাটা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে এই ১২.৭ লাখ ‘অন্যান্য’ শ্রেণির মানুষ। ইসি সূত্র জানিয়েছে, এঁদের ক্ষেত্রে বয়স, বাবার নাম, লিঙ্গ, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ইত্যাদি যৌক্তিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
অনেকে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী কিন্তু আগে কখনো ভোটার তালিকায় নাম ছিল না, কেউ একই বাবা-মায়ের ৬ জনের বেশি সন্তান, আবার কারও বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান অস্বাভাবিক। এসব ক্ষেত্রে নথিপত্র দিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাদের ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব চলে যায় না।
কিন্তু নির্বাচনে শুধু প্রকৃত নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এই যাচাই অত্যন্ত জরুরি। আদালত এসআইআর-কে সাংবিধানিকভাবে বৈধ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে যে, এটি মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম শর্ত পূরণ করে।এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বিহারে এবং পরে অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীরা এটিকে ‘ব্যাকডোর এনআরসি’ বলে সমালোচনা করলেও ইসি জোর দিয়ে বলেছে, এটি কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অভিযান নয়। উদ্দেশ্য শুধু ভোটার তালিকাকে পরিষ্কার ও নির্ভুল করা। দরজায় দরজায় যাচাই, নথিপত্র চাওয়া এবং আপিলের সুযোগ রেখে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।




















