গান্ধীনগর: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গান্ধীনগরের এক জনসভায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, (Amit Shah)ভারত সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করব। আজ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে এগোচ্ছি।”শাহ বিশেষভাবে প্রশংসা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
তিনি জানান, মাত্র সাত দিনের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর করেছে। এছাড়া চিকেন নেক এলাকার ১২১ হেক্টর জমিও কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমি হস্তান্তর সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।অমিত শাহ বলেন, “এখন অনুপ্রবেশকারীরা নিজে থেকেই ফিরে যাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ SIR এ চিহ্নিত ১২.৭ লক্ষের নাম ধরে ধরে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করেছে, কিন্তু আমরা চাই অনুপ্রবেশকারীরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাক। তবুও দেশ থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়ার শপথ আমরা নিয়েছি।” তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ চলছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উপর চাপ পড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগকে তাই অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।শাহ আরও বলেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ শুধু শারীরিক বাধা নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। চিকেন নেক এলাকা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই অঞ্চলে বিএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণ বাড়লে শুধু অনুপ্রবেশই নয়, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর থেকে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় অনেকাংশে উন্নত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জমি হস্তান্তরের দ্রুততা তারই প্রমাণ। অমিত শাহ এই সহযোগিতার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা চলতে থাকলে সীমান্ত নিরাপত্তা অনেক বেশি মজবুত হবে।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুধু বেড়া নির্মাণ নয়, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়াও চলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে লক্ষ লক্ষ সন্দেহভাজন নাম ইতিমধ্যে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিটেনশন সেন্টারগুলোকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।




















