নয়াদিল্লি: এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতের বিদেশনীতিতে এক বড়সড় বদলের আভাস মিলল। একদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ, অন্যদিকে প্রতিবেশী কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্কের শৈত্য, এই দুইয়ের প্রভাবে ইরান ও বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ উন্নয়ন তহবিলে বড়সড় কোপ বসাল মোদী সরকার।
বাজেট নথি অনুযায়ী, ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর উন্নয়নের জন্য গত বছর যেখানে ৪০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছিল, এবার তা একধাক্কায় কমিয়ে ‘শূন্য’ করে দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খড়্গ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ছাড়ের মেয়াদ এপ্রিলেই শেষ হতে চলায় আপাতত এই প্রকল্প নিয়ে হাত গুটিয়ে থাকতে চাইছে সাউথ ব্লক।
বাংলাদেশের উপর প্রভাব
একই ছবি ধরা পড়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও। ঢাকার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন আর অজানা নয়। তার প্রতিফলন দেখা গেল বাজেটেও। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য গত বছরের ১২০ কোটি টাকার বরাদ্দ কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র ৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সাহায্য কমল ঠিক অর্ধেক। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন, হয়তো তারপরই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নতুন করে মেলাতে চায় দিল্লি।
বন্ধু ভুটান India foreign policy Budget
সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও বিশ্বস্ত বন্ধুর মর্যাদা পেয়েছে ভুটান। প্রতিবেশীদের মধ্যে বরাবরের মতো এবারও তাদের জন্য সবথেকে বড় সহায়তার ঝুলি বরাদ্দ করেছে ভারত, অঙ্কটা ২,২৮৮ কোটি টাকা। এছাড়া নেপালের জন্য ৮০০ কোটি এবং মালদ্বীপ ও মরিশাসের জন্য ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের বাজেট এবার ২২,১১৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই অস্থির সময়ে ভারত যে অত্যন্ত মেপে পা ফেলছে, বাজেটের এই হিসাব তারই প্রমাণ।




















