ঢাকা: ফের হিন্দু নিধনের ঘটনা ঘটল বাংলাদেশে। এবার অকুস্থল কক্সবাজার। (priest found dead)কক্সবাজারের খুরুশকুলের একটি হিন্দু মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন নয়ন সাধু। তিনদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আজ আজ খুরুশকুলের একটি জংগলে আঁধপোড়া ফাঁসিতে ঝোলান নয়ন সাধুর বিভৎস মরদেহ পাওয়া গেছে।গলায় রুদ্রাক্ষ মালা ছিল। কক্সবাজারের খুরুশকুলে এক হিন্দু মন্দিরের পুরোহিত নয়ন সাধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার সকালে খুরুশকুলের গভীর জঙ্গলের একটি আঁধপোড়া গাছে ফাঁসিতে ঝোলানো অবস্থায় তাঁর বিভৎস মরদেহ পাওয়া যায়। গলায় এখনও রুদ্রাক্ষের মালা জড়ানো ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মন্দিরের পাশে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে।নয়ন সাধু খুরুশকুলের একটি ছোট হিন্দু মন্দিরের নিয়মিত পুরোহিত ছিলেন।
আরও দেখুনঃ ‘কঠিন লড়াইয়ের সামনে মমতা!’ কেজরিওয়াল
স্থানীয়রা তাঁকে শান্ত, ধর্মপ্রাণ ও নিরীহ মানুষ হিসেবে চিনতেন। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনি মন্দিরে পূজা-অর্চনা করতেন, ভক্তদের সঙ্গে কথা বলতেন এবং সাধনায় মগ্ন থাকতেন। তাঁর পরনে সাধারণ গেরুয়া বস্ত্র, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা এটাই ছিল তাঁর চেনা রূপ। কিন্তু গত রবিবার থেকে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবার ও মন্দিরের অন্যান্য সেবায়েতরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো ভক্তের বাড়িতে গিয়েছেন বা কাছাকাছি কোনো জায়গায় ধ্যানে বসেছেন।
কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, উদ্বেগ তত বেড়েছে।মঙ্গলবার রাত থেকে স্থানীয় হিন্দু যুবকরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। বুধবার ভোরে খুরুশকুলের পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে একটি ঘন গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। মরদেহটি দেখে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, নয়ন সাধুকে প্রথমে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে আত্মহত্যা বলে চালানো যায়।
তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, খুরুশকুল এলাকায় পাহাড়ি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের সঙ্গে সংঘাত চলছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর আগে পাহাড়ের ঢালে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। সম্প্রতি সেখানে আরও বড় করে মন্দির ও আশ্রম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এতে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যু গোষ্ঠী বাধা দিয়ে আসছিল। তারা জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক তুলে মামলা-মোকদ্দমা করে। নয়ন সাধু এই মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে জমি রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন বলে জানা গেছে। অনেকে ধারণা করছেন, মন্দির নির্মাণ বন্ধ করতে এবং ভয় দেখাতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।




















