গুয়াহাটি: অসমের রাজনীতিতে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। (Himanta Biswa Sarma)এরই মধ্যে শুক্রবার জলুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াই শুরু করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এবারও তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
গুয়াহাটির কামরূপ (মেট্রো) জেলার জেলা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে বিশাল সংখ্যক ভারতীয় জনতা পার্টি সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করেন শর্মা। এই জমায়েত থেকেই স্পষ্ট, নির্বাচনের আগে দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তার আগে এই মনোনয়ন জমা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর শর্মা জানান, এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সপ্তম নির্বাচন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য দু’টি আসামের পরিচয় রক্ষা করা এবং দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।” তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষ এবারও বিজেপির উন্নয়নমূলক কাজের উপর আস্থা রাখবেন এবং তাঁরা পূর্ণ সমর্থন পাবেন।
এদিকে, অসমের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন যে, এই নির্বাচন মূলত হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে লড়াই। সেই মন্তব্যের জবাবে শর্মা খানিকটা কৌতুকের সুরেই বলেন, “প্রশংসা পেলে ধন্যবাদ জানানো উচিত।” তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্যই প্রমাণ করে যে তিনি এখন রাজ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রতিষ্ঠান’-এ পরিণত হয়েছেন, যদিও নিজে তিনি তা দাবি করেন না।
নির্বাচনী প্রচারে শর্মা আরও একটি বিতর্কিত ইস্যু তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য হল “প্রত্যেক হিন্দুকে বিজেপির ছাতার তলায় আনা” এবং সমাজের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা। এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জলুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে শর্মার রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিনের। ২০০১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি এবং টানা তিনবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরে ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি অসমের রাজনীতিতে বিজেপির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা-ও এই নির্বাচনে দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে অসমে যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট এবং এবার বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরবে।
আগামী নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এবং কংগ্রেসের মধ্যে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এনডিএ জোট ১২৬টির মধ্যে ৭৫টি আসন জিতে সরকার গঠন করেছিল, যেখানে বিজেপি একাই পেয়েছিল ৬০টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট মাত্র ১৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৬.২ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে অন্যতম বেশি। এবারও একই রকম উচ্চ ভোটদানের আশা করা হচ্ছে। ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে, সেই দিনই পরিষ্কার হবে অসমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।




















