গুয়াহাটি: অসমে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। (Himanta Biswa Sarma)নির্বাচনের আগে হিন্দু ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তিনি। জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দাখিলের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমার জীবনের একটা মিশন হল হিন্দু সমাজকে একত্রিত করা। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ হোক, কংগ্রেসে থেকে অ্যান্টি-হিন্দু কাজ করার দরকার নেই। সব হিন্দুকে বিজেপির ছাতার তলায় আনতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেছেন যে, অসমের পরিচয় রক্ষা করা এবং দ্রুত উন্নয়ন তার প্রধান অ্যাজেন্ডা।
এই ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারের মাঝে এসেছে, যখন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অসমের জমি, সম্পদ এবং জনসংখ্যা নিয়ে লড়াইকে রাজনীতির বাইরে দেখছেন। তিনি বলেছেন, ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১.৫ লক্ষ বিঘা (প্রায় ৫০,০০০ একর) অবৈধ দখলমুক্ত জমি উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী মেয়াদে আরও ৫ লক্ষ বিঘা জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছেন। “এবার ১.৫ লক্ষ, পরের বার ৫ লক্ষ,” বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এটা কোনো রাজনৈতিক খেলা নয়। এটা অসমের ভূমি, সম্পদ এবং জনসংখ্যা-সংক্রান্ত লড়াই।
তিনি দাবি করেছেন যে, কংগ্রেসের আমলে ৩০ লক্ষ বিঘা বনভূমি দখলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, আর বিজেপি সরকার সেগুলো উদ্ধার করে জনগণের জন্য ফিরিয়ে দিচ্ছে।এই উচ্ছেদ অভিযান অসমের রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সরকারের দাবি, এগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দখল থেকে জমি মুক্ত করা। হিমন্ত বলেছেন, এটা অসমীয় পরিচয় রক্ষার লড়াই।
কিন্তু বিরোধীরা অভিযোগ করছে যে, এটা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের হাতিয়ার। কংগ্রেস এবং অন্যান্য দল বলছে, উচ্ছেদ অভিযান মূলত বাংলাভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করে, যা রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটাচ্ছে। কয়েকটি উচ্ছেদে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছিল। বিরোধীরা বলছেন, এতে মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কিছু জমি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অবশ্য এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযান অসমের সকল নাগরিকের জন্য জমি জনগণের, অবৈধ দখলদারদের নয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আগামী মেয়াদে আরও বড় আকারে অভিযান চালানো হবে, যাতে ১,২৫০ বর্গকিলোমিটার জমি উদ্ধার করা যায়।




















