Childhood Trauma: কিশোরের আচরণে হঠাৎ বদল? শৈশবের মানসিক ট্রমার ইঙ্গিত হতে পারে

কলকাতা: একসময় হাসিখুশি, প্রাণবন্ত যে শিশু, সে যদি হঠাৎ করেই চুপচাপ হয়ে যায়, অকারণে রেগে যায়, পরিবার-বন্ধুদের এড়িয়ে চলতে শুরু করে বা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে…

childhood-trauma-signs-in-teenagers-behaviour-mental-health-experts

কলকাতা: একসময় হাসিখুশি, প্রাণবন্ত যে শিশু, সে যদি হঠাৎ করেই চুপচাপ হয়ে যায়, অকারণে রেগে যায়, পরিবার-বন্ধুদের এড়িয়ে চলতে শুরু করে বা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেটিকে শুধুই বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। মনোবিদদের মতে, শৈশবে পাওয়া মানসিক আঘাত (Childhood Trauma) অনেক সময় কিশোর বয়সে আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাই সন্তানের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবের অবহেলা, পারিবারিক অশান্তি, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, অতিরিক্ত বকাঝকা, স্কুলে হেনস্তা (Bullying), প্রিয়জনকে হারানো কিংবা কোনও ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতা শিশুর মনে গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই ক্ষত আরও গভীর হয়ে কৈশোরে বিভিন্ন মানসিক ও আচরণগত সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে।

তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে ট্রমার প্রভাব একইভাবে প্রকাশ পায় না। কেউ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না, কেউ হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, আবার কেউ সম্পূর্ণ নিজের মধ্যে গুটিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি
• অকারণে রাগ বা বিরক্তি বেড়ে যাওয়া
• পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া
• পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
• আত্মবিশ্বাসের অভাব
• অতিরিক্ত উদ্বেগ বা অকারণ ভয়
• বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা বা ঘুমের সমস্যা
• মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা
• অকারণ অপরাধবোধ
• দীর্ঘ সময় মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকা
• একাকীত্বে বেশি সময় কাটানোর প্রবণতা

মনোবিদরা জানাচ্ছেন, গবেষণায় দেখা গেছে শৈশবের মানসিক ট্রমা শুধু আবেগের উপর নয়, মস্তিষ্কের বিকাশ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার দক্ষতার উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান, তার কথা মন দিয়ে শুনুন এবং কোনও অনুভূতিকেই ছোট করে দেখবেন না। অনেক সময় শিশু বা কিশোর-কিশোরীরা সরাসরি নিজের কষ্টের কথা বলতে পারে না। তাই তার আচরণ, ঘুম, খাওয়াদাওয়া, পড়াশোনা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশার ধরনে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার বকাঝকা, অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা বা “তুমি অতিরিক্ত ভাবছ”, এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যেখানে সন্তান নির্ভয়ে নিজের মনের কথা বলতে পারে এবং বুঝতে পারে যে পরিবারের সদস্যরা সবসময় তার পাশে আছেন।

মনোবিদদের আরও পরামর্শ, প্রয়োজনে কাউন্সেলর বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে কোনও দ্বিধা করা উচিত নয়। এখনও অনেক পরিবার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচে ভোগেন। কিন্তু মানসিক সমস্যাও অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার মতোই চিকিৎসাযোগ্য। সময়মতো কাউন্সেলিং, পরিবারের সমর্থন এবং সঠিক পরিচর্যা পেলে অধিকাংশ শিশুই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি হয় নিরাপদ, স্নেহময় ও বিশ্বাসভিত্তিক পারিবারিক পরিবেশে। তাই সন্তানের ফলাফল বা শৃঙ্খলার পাশাপাশি তার মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধুমাত্র “বয়সের দোষ” ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে, সময়মতো তার মনের কথা বোঝার চেষ্টা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।