Health Awareness: বর্ষাকাল এলেই বাড়ে জলবাহিত রোগের প্রকোপ। ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ভাইরাল জ্বরের পাশাপাশি এই সময়ে উদ্বেগ বাড়ায় হেপাটাইটিস এ (Hepatitis A)। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত জল ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাস শিশুদের দ্রুত সংক্রমিত করতে পারে। প্রথমদিকে সাধারণ জ্বর বা পেটের সমস্যার মতো মনে হলেও, সময়মতো চিকিৎসা না হলে লিভারে প্রদাহ (লিভার ইনফ্ল্যামেশন)-সহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তাই বর্ষাকালে শিশুদের সুস্থ রাখতে হেপাটাইটিস এ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
হেপাটাইটিস এ কী?
হেপাটাইটিস এ একটি ভাইরাসজনিত লিভারের সংক্রমণ। এটি মূলত ছড়ায়
• দূষিত খাবারের মাধ্যমে
• অপরিষ্কার পানীয় জল থেকে
• সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে
• অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে
বর্ষাকালে জল দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই রোগের সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়। স্কুল, ডে-কেয়ার, খেলার মাঠ বা জনবহুল এলাকায় শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?
হেপাটাইটিস এ-এর উপসর্গ শুরুতে খুব সাধারণ হতে পারে। যেমন
• জ্বর
• দুর্বলতা
• খাওয়ায় অনীহা
• বমি বা বমি বমি ভাব
• পেটব্যথা
• ডায়রিয়া
• অতিরিক্ত ক্লান্তি
সংক্রমণ বাড়লে দেখা দিতে পারে
• চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
• প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া
• মলের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
শিশুর দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা খাওয়ায় অনীহা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুদের সুরক্ষায় ৭টি জরুরি সতর্কতা
১. নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ান
খাওয়ার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে এবং বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করান।
২. শুধু নিরাপদ পানীয় জল দিন
বর্ষাকালে ফুটিয়ে বা পরিশোধিত জল পান করানো সবচেয়ে নিরাপদ।
৩. রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন
খোলা খাবার, কাটা ফল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার এবং অপরিষ্কার পানীয় এড়িয়ে চলুন।
৪. বাড়ির টাটকা খাবার খাওয়ান
তাজা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ালে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
৫. নখ পরিষ্কার ও ছোট রাখুন
অপরিষ্কার নখে জীবাণু জমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৬. হেপাটাইটিস এ-এর টিকা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়সে হেপাটাইটিস এ ভ্যাকসিন নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
৭. উপসর্গ দেখলে নিজে থেকে ওষুধ নয়
জ্বর বা পেটের সমস্যা হলেই নিজে থেকে ওষুধ খাওয়াবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আক্রান্ত হলে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে রোগীকে দিতে হবে—
• পর্যাপ্ত বিশ্রাম
• প্রচুর তরল খাবার
• সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য
• চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা
অবহেলা করলে পানিশূন্যতা, দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা এবং বিরল ক্ষেত্রে লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
বর্ষাকালে শুধু ঠান্ডা লাগা বা বৃষ্টিতে ভেজা নিয়েই চিন্তা করলে হবে না। শিশুর খাবার, পানীয় জল, হাতের পরিচ্ছন্নতা এবং টিকাকরণের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সামান্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই হেপাটাইটিস এ-সহ বহু জলবাহিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
(এই প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে। কোনও উপসর্গ দেখা দিলে বা হেপাটাইটিস এ-এর সন্দেহ হলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)





