এসআইআর মামলাকে ঘিরে অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে শীর্ষ আদালত যে নির্দেশ জারি করেছে, তাতে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান জল্পনার অনেকটাই অবসান ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের মাত্র দুই দিন আগে ট্রাইব্যুনালে কোনো নিষ্পত্তি হলেও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে শাসকদল এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির এটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করছে। এই রায় ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত খুশি। তাঁর কথায়, “আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, রাজ্য সরকার আদালতের নির্দেশকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি। রাজ্যের বিরোধী শিবির বিশেষ করে বিজেপি এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত শাসকদলকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তাঁর বক্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা উঠে আসে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা বা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক না কেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট করাতে চাইছেন সেভাবেই করুন। পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করুন। তবুও চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূল চলে গিয়েছে। তৃণমূল শেষ।”




















