কলকাতা: বাংলায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে পুরো দমে (GPS tracker)। রাজ্যে ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই আবহেই আরেকটি বিতর্কিত বিষয় সামনে এসেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেছেন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (সিএপিএফ)-এর সদস্যদের উপর জিপিএস ট্র্যাকার বা বডি ক্যামেরা লাগানোর কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসিআই) পাঠানো পুলিশ অবজার্ভার।
সিইও বলেছেন, “যদি কেউ গোপন তথ্য দিতে চান, তাহলে প্রথমে আমাকে জানান; আমিই এখানে সিইও। কেন্দ্রীয় বাহিনীতে জিপিএস ট্র্যাকার বা বডি ক্যামেরা লাগানোর কোনো বিশেষ কারণ নেই। ইসিআই-এর পুলিশ অবজার্ভার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি আগে কী হয়েছে বা হয়নি তা নিয়ে চিন্তিত নই। নতুন অবজার্ভার এসেছেন, তিনি বলেছেন এটি বাস্তবায়ন করবেন, তাই আমরা ইসিআই-কে সেই অনুযায়ী পরামর্শ দিচ্ছি।”এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আরও দেখুন: মুর্শিদাবাদে উদ্ধার হল ৩ বাজারের ব্যাগ ভর্তি সকেট বোমা
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিএপিএফ-এর যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো হচ্ছে, যাতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা রিয়েল টাইমে বাহিনীর গতিবিধি মনিটর করতে পারেন। এই ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অতীতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, যেমন বাহিনী সঠিক জায়গায় না পৌঁছানো বা বিলম্ব হওয়া।
এই ট্র্যাকিং সিস্টেম দিয়ে পর্যবেক্ষকরা প্রতিদিনের রিপোর্টও কমিশনে জমা দিতে পারবেন।সিইও আগরওয়ালের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই সিদ্ধান্ত তাঁর নয়, বরং নতুন পুলিশ অবজার্ভারের। তিনি বলেছেন, গোপন তথ্য যদি কেউ দিতে চান, তাহলে তাঁকে প্রথমে জানাতে হবে। এটি ইঙ্গিত করে যে, কোনো গোপন অভিযোগ বা তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৪০ কোম্পানি মার্চ থেকে আসছে।
মোট ৪৮০ কোম্পানি মোতায়েন হবে বলে জানা গেছে। এই বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্র সুরক্ষা এবং সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। সিইও বলেছেন, প্রয়োজনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও এসপি-র অনুরোধে কেন্দ্রীয় বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।বিরোধী দলগুলো এই জিপিএস ট্র্যাকিংকে স্বাগত জানিয়েছে।
তারা বলছে, এটি রাজ্য পুলিশের প্রভাব থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুক্ত রাখবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন যে, অতীতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘ভুল পথে’ চালিত করা হয়েছে, এখন ট্র্যাকিং দিয়ে তা রোধ হবে। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এটাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। তারা বলছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এবং এই ধরনের অতিরিক্ত মনিটরিং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই ঘটনা নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে। সিইও আগরওয়াল নিজে বলেছেন যে, তিনি পুরনো ঘটনা নিয়ে চিন্তিত নন, নতুন অবজার্ভারের সিদ্ধান্ত মেনে চলছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্ক চলছে, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধন হচ্ছে। সিইও-র অফিসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং তাঁকে ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।




















