কলকাতা: সুরের দুনিয়াকেও রেহাই দেয়নি তৃণমূল সরকার। তারই প্রমান দিলেন গায়িকা ঋদ্ধি বন্দোপাধ্যায় (Riddhi Bandopadhyay)। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন কিভাবে গায়কদের কাছ থেকে কাটমানি নিতেন তা নিয়েই সরব হয়েছেন তিনি। এবার ঋদ্ধি সরাসরি এই অভিযোগ নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে।
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক প্রকাশ্য আলোচনায় তিনি দাবি করেন, সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর শিল্পীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পারিশ্রমিক জমা পড়লেও সেই টাকার একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরত দিতে বলা হতো। তাঁর কথায়, “আমাকে বলা হয়েছিল, তোর ব্যাংকে সাত হাজার টাকা যাবে, সেখান থেকে দুই হাজার টাকা আমাকে ব্যাক করিস।”
শিল্পীর দাবি, এই ধরনের প্রস্তাবে তিনি কখনও রাজি হননি। তাঁর মতে, শিল্পচর্চা এবং পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে আপস না করায় তাঁকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কাটমানি দিতে অস্বীকার করার পর ধীরে ধীরে সরকারি অনুষ্ঠান এবং সরকারি হলগুলিতে সুযোগ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, সাংস্কৃতিক মহলের একটি অংশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেও ভয় পেত বলে দাবি করেছেন তিনি।
আরও দেখুনঃ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি আদায়ে লাগাম, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘কাটমানি’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা গেলেও সাংস্কৃতিক জগতের ভেতরে এ ধরনের অভিযোগ খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে। সেই কারণে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পী মহলেও তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেনও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সাংস্কৃতিক পরিসরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হলে অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একইভাবে গায়িকা দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যদি সত্যিই শিল্পীদের পারিশ্রমিক থেকে কাটমানি নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী কাজ করছিল, যারা সুযোগ বণ্টন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করত। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
সাংস্কৃতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি শুধুমাত্র একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনে আরও শিল্পী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ রাজ্যের সংস্কৃতি জগতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি যেমন জোরালো হচ্ছে, তেমনি শিল্পীদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে। এখন নজর থাকবে, এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট মহল কোনও তদন্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।




















