নদীয়ার (Nadia) কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকে রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে উঠল বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ। উপভোক্তা তালিকায় মহিলাদের জন্য নির্ধারিত এই প্রকল্পে ১৭৩ জন পুরুষের নাম থাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ইতিমধ্যেই এই নামগুলিকে চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাতিলের জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কৃষ্ণনগর ২ ব্লকের বিডিও। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে শুধুমাত্র মহিলাদেরই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের উপভোক্তা তালিকা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একাধিক পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।
জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক (Nadia) পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন ও নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নামে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই উপভোক্তা তালিকা যাচাই করতে গিয়ে এই অনিয়ম ধরা পড়ে।
প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লক, যা প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত, সেখানেই ১৭৩ জন পুরুষের নাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। (Nadia) আরও জানা গিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই নামগুলি ধাপে ধাপে উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চলেছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে প্রশাসনিক মহলে।
ঘটনার পরপরই কৃষ্ণনগর ২ ব্লক প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মী ভোলা সিল-কে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, উপভোক্তা তালিকা প্রস্তুত ও আপডেট করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। কীভাবে পুরুষদের নাম এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে তাঁকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, জেলাশাসকের দফতরকে পাঠানো আবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ১৭৩ জন পুরুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁরা কীভাবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেন এবং তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে কি না, তা নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম এড়াতে উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ডেটাবেস পুনর্মূল্যায়ন, ব্লক স্তরে অডিট এবং নিয়মিত যাচাইয়ের উপর জোর দেওয়া হতে পারে।
।




















