বিড: NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য (PV Kulkarni)। এবার সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত পিভি কুলকার্নির সঙ্গে যুক্ত একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে মহারাষ্ট্রের বিড জেলায়।
তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে যে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, বাস্তব ঘটনা তার থেকে কিছুটা ভিন্ন। অনেকেই মনে করেছিলেন যে প্রশাসন সরাসরি বুলডোজার চালিয়ে ওই ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিড পৌরসভার আইনি চাপ এবং ধারাবাহিক নোটিশের মুখে পড়ে ভবনের সঙ্গে যুক্ত নির্মাণ সংস্থাই নিজের উদ্যোগে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, পিভি কুলকার্নি একজন অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের অধ্যাপক। ২০২৬ সালের NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তাঁকে অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, মহারাষ্ট্রের বিড শহরে তাঁর পৈত্রিক জমিতে একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল।
আরও দেখুনঃডিজিটাল প্রচার নয়, ঘরে ঘরে গিয়ে জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ নীতিন নবীনের
এই নির্মাণকাজ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিড পৌরসভা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রশাসনের দাবি, ভবনটির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণের বৈধ ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি একটি মন্দিরের জন্য সংরক্ষিত জমির অংশও প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসে। এরপরই ভবনটিকে বেআইনি নির্মাণ হিসেবে চিহ্নিত করে পৌরসভা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্মাতা সংস্থাকে প্রথমে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। পরে নিয়ম মেনে দু’দফায় নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বেআইনি অংশ সরিয়ে না ফেললে পৌরসভা নিজেই ভাঙার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। প্রশাসনের বুলডোজার নামার আগেই নির্মাণ সংস্থা নিজেদের উদ্যোগে একটি বুলডোজার এনে ভবনের অবৈধ অংশ ভাঙার কাজ শুরু করে। মূলত অবৈধ বেসমেন্ট এবং আরসিসি পিলারের কিছু অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই অংশ সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিড পৌরসভার প্রধান আধিকারিক শৈলেশ ফাড়সে জানিয়েছেন, প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। নোটিশ পাওয়ার পর মালিকপক্ষ ও নির্মাতা সংস্থা নিজেরাই অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে পুরসভাকে সরাসরি ভাঙার অভিযান চালাতে হয়নি।




















