বহরমপুর: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ফের চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদে। (Socket bombs)সাগরদিঘি এলাকায় তিনটি নাইলনের ব্যাগ থেকে ১৫টি দেশীয় তৈরি সকেট বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। এই উদ্ধার অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।জঙ্গিপুরের এসডিপিও প্রবীর মণ্ডল জানিয়েছেন, “মোট ১৫টি কান্ট্রি-মেড সকেট বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
বোম ডিসপোজাল স্কোয়াডকে জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে, স্থানীয় সূত্র থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ব্যাগগুলো উদ্ধার করে। বোমাগুলো নাইলনের ব্যাগে ভর্তি অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে কারা এগুলো রেখেছিল এবং কী উদ্দেশ্যে।মুর্শিদাবাদ জেলা সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চোরাচালানের ইতিহাস রয়েছে।
আরও দেখুন: মুসলিম মানবতা কর্মী সলিমকে প্রকাশ্যে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাল মৌলবাদীরা
বিশেষ করে নির্বাচনের সময় এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলে বোমা, অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। এখানে বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। নির্বাচনের আগে এই ধরনের বোমা উদ্ধারের ঘটনা ভোটারদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।পুলিশ জানিয়েছে, বোমাগুলো তাজা অবস্থায় ছিল এবং যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারত।
স্থানীয়রা বলছেন, এগুলো সম্ভবত কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দুষ্কৃতীরা লুকিয়ে রেখেছিল। এর আগেও মুর্শিদাবাদে একাধিকবার বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে জেলায় ৬০-৭০টি সকেট বোমা উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। কিছু ক্ষেত্রে ৫০০-এরও বেশি বোমা বিশেষ অভিযানে পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা দেখে অনেকে বলছেন, জেলায় বোমা তৈরি ও সংরক্ষণের একটি নেটওয়ার্ক চালু রয়েছে, যা নির্বাচনের সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যর্থতা বলে অভিযোগ করছে। তারা বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্ত জেলায় অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান বেড়েছে। বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন যে, এসব বোমা নির্বাচনী হিংসার জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে শাসক দল বলছে, পুলিশ সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্ধারের পর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এসে বিস্ফোরকগুলো নিরাপদে ধ্বংস করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। অনেকে বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা বাড়লে ভোট দেওয়ার সময় ভয় লাগবে।



