মুসলিম মানবতা কর্মী সলিমকে প্রকাশ্যে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাল মৌলবাদীরা

salim-wastik-attacked-in-ghaziabad-loni-incident

নয়াদিল্লি: ইসলামের বিতর্কিত অধ্যায় তুলে ধরতেন তিনি। (Salim Wastik)সমালোচনা করতেন কুরআন হাদিসের। সেই মুসলিম মানবতা কর্মী সালিম ওয়াস্তিককে নৃশংস ভাবে ছুরি দিয়ে কোপাল মৌলবাদীরা। আজ সকালে দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের লোনি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তিনি দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেকেই এই হামলাকে মৌলবাদীদের দ্বারা চালানো বলে বিশ্বাস করেন। কারণ সালিম ওয়াস্তিক দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের কিছু শিক্ষা, কুরআনের আয়াত এবং হাদিস নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন।

সালিম ওয়াস্তিক একজন পরিচিত এক্স-মুসলিম অ্যাকটিভিস্ট। তিনি ইউটিউব, পডকাস্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। মাদ্রাসা শিক্ষা, নারীদের প্রতি আচরণ, হালালা, বহুবিবাহ, জিহাদি চিন্তাধারা এবং ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস নিয়ে তাঁর সমালোচনা বিতর্কিত হয়েছে। সম্প্রতি তিনি ‘ঘর ওয়াপসি’ করে হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন এবং ইসলাম ছেড়ে যাওয়ার কারণগুলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন।

   

আরও দেখুনঃ ভূমিকম্পে হেলে গেল মধ্য কলকাতার বহুতল? হুলস্থূল মেটকাফ স্ট্রিটে

তাঁর ভিডিও ও পডকাস্টে তিনি বলেন, কুরআন ও হাদিসের কিছু অংশ নারী, প্রাণী এবং অমুসলিমদের প্রতি হিংসাত্মক বলে মনে করেন। এসব কথার জন্য তিনি অনেকের সমর্থন পেয়েছেন, কিন্তু একই সঙ্গে হুমকি ও বিরোধিতাও পেয়েছেন।আজ সকাল ছ’টা নাগাদ তাঁর বাড়ির কাছে অজ্ঞাত আক্রমণকারীরা তাঁকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। খবর অনুযায়ী, গলা, পেট, হাত ও অন্যান্য অংশে একাধিক গভীর ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত জিটিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা বলছেন, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল করতে লড়াই করছেন এবং জীবন-মরণের সংকট চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, হামলাকারীরা মুখোশ পরে এসেছিল এবং দ্রুত পালিয়ে গেছে।এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অনেকে এই ঘটনাকে কানহাইয়ালাল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে একজন টেইলর ইসলামের সমালোচনা করার জন্য নৃশংসভাবে হত্যা হয়েছিল। এক্স-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তারা বলছেন, ধর্ম ছেড়ে যাওয়া বা সমালোচনা করলে জীবনের ঝুঁকি থাকে। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী অ্যাকাউন্ট ও অ্যাকটিভিস্টরা এই হামলাকে ‘ইসলামিস্ট হিংসা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং পুলিশের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটি বাকস্বাধীনতা ও ধর্মান্তরের অধিকারের উপর আক্রমণ।