ফলতায় ECI কে আক্রমণ করতে জাহাঙ্গীরের ৫০০ টাকার প্রমীলাবাহিনী

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ব্লকে নির্বাচন কমিশনের (ECI) টিম পরিদর্শনে নামলে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
falta-eci-team-threat-women-mobilized-allegation

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ব্লকে নির্বাচন কমিশনের (ECI) টিম পরিদর্শনে নামলে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এলাকায় প্রায় ৩০০ জন মহিলাকে জড়ো করা হয়েছে, যাঁদের প্রত্যেককে নাকি ৫০০ টাকা করে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দলকে বাধা দিতে এবং আক্রমণ করতে প্রস্তুত করছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক অংশ। অভিযোগে উঠে এসেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গিরের নাম।

শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন এই মহিলাদের ফলতা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের উপরের একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে জড়ো করা হয়েছে। অভিযোগ, সেখানে তাঁদের কীভাবে বাধা দেবে বা আক্রমণ করবে তা নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পুরো ঘটনার সঙ্গে ব্লকের কিছু প্রশাসনিক কর্মীরও নাম জড়িয়েছে, যাঁরা নাকি এই মহিলাদের প্রশিক্ষণে সাহায্য করেছেন। তবে প্রশাসনের তরফে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।

   

অভিযোগ আরও গুরুতর কারণ, নির্বাচন কমিশনের দল এলাকা পরিদর্শনে গেলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই মহিলা দলকে চটি ও লাঠি নিয়ে কমিশনের দলের সামনে দাঁড়ানোর ‘নির্দেশ’ দেওয়া হয়েছে। ফলে কমিশনের দল এগোলে পরিস্থিতি হিংসাত্মক আকার নিতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা।

কমিশনের বড় ঘোষণা, SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটার তালিকার প্রকাশ পরিবর্তিত

এ ঘটনার কথা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপরই প্রশ্ন তুলে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—যদি অভিযোগগুলি সত্যি হয়, তবে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে, যাতে কমিশনের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ অশান্ত না হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা, গুজব এবং অভিযোগ বাড়তে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রশাসন ও কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলতা ঘটনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে এলাকা নিরাপদ রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা।

ফলতায় এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় মানুষদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ ভোটাররা কতটা নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন? এমন প্রশ্ন তুলছেন বহু বাসিন্দা। অন্যদিকে, কিছু মানুষ দাবি করছেন অভিযোগগুলি অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও হতে পারে। তাই সঠিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলি হাতে পেয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। ইতিমধ্যে প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে কোনও রকম হুমকি বা বাধা যেন সামনে না আসে—এটাই এখন এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google