শুভেন্দুর হাতে ‘মিষ্টি’ খেয়ে দিলীপের মুখে মমতার ‘শুভনন্দন’! নতুন খেলা শুরু?

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মানেই বিতর্কের বিস্ফোরণ। আর সেই দিলীপ ঘোষ যদি আসেন বিধানসভাতে, তাহলে বিধানসভাও খবরের শিরোনামে আসবে এমনটাই স্বাভাবিক। তবে আজ বিধানসভায় বিজেপির ঘরে ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Suvendu Celebrating Dilip Ghosh Birthday, শুভেন্দুর হাতে 'মিষ্টি' খেয়ে দিলীপের মুখে মমতার 'শুভনন্দন'! নতুন খেলা শুরু?

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মানেই বিতর্কের বিস্ফোরণ। আর সেই দিলীপ ঘোষ যদি আসেন বিধানসভাতে, তাহলে বিধানসভাও খবরের শিরোনামে আসবে এমনটাই স্বাভাবিক। তবে আজ বিধানসভায় বিজেপির ঘরে কোনও বয়কট বা বিক্ষোভ প্রদর্শনে আবহাওয়া ছিল না। ছবিটা পাল্টে গিয়ে যেন ‘হাম সাথ হ্যায়’-এর আবহাওয়া বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলে। সৌজন্যে সেই দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষের জন্মদিনে আদালত চত্বরে মুখোমুখি হয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন কুণাল ঘোষও। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের চোখ কপালে উঠেছে, যখন খোদ শুভেন্দু অধিকারী দিলীপ ঘোষ কে মিষ্টি খাইয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন। ২০২১ সালের পর থেকে ২০২৪-এ আজকের দিন অব্দি যে চিত্র কার্যত কষ্টকর কল্পনাই ছিল বঙ্গের রাজনীতিতে।

   

দিলীপ ঘোষের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি যদি কলকাতায় থাকেন এবং বিধানসভা যদি সেই সময় চলে, তাহলে তিনি চেষ্টা করেন বিধানসভা ঘুরে যাওয়ার। লক্ষ্মীবারের বারবেলাতেও সেরকমই ঝটিকা সফরে বিধানসভাতে এসেছিলেন দিলীপ। কিন্তু সেখানে তাঁর জন্যই চমক নিয়ে অপেক্ষা করছেন খোদ বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী। একথা বোধহয় স্বয়ং দিলীপও ভাবেননি।

বিধানসভায় বিজেপির অফিস রুমে ঢুকতেই সাদর অভ্যর্থনা জানানো হয় দিলীপকে। পুষ্প স্তবক এবং উত্তরীয় নিয়ে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন আরেক বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলও। একেবারে আন্তরিকতার সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলীপ ঘোষ কে উত্তরীয় পরিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের হাতে প্লেটে করে মিষ্টি এনে নিজের হাতেই দিলীপকে খাইয়ে দিলেন শুভেন্দু। পাশে তখন পুষ্পস্তবক হাতে সহস্য মুখে অগ্নিমিত্রা পল।

‘ক্ষমা চাওয়ার বদলে দুঃখপ্রকাশ করুন’, আবেগপ্রবণ ফিরহাদ জবাব দিতেই শুভেন্দুর রাগ গলে জল?

সমবেত সমর্থক এবং দলীয় বিধায়কদের মধ্যে তখন কার্যত উচ্ছ্বাসের বন্যা। এরই মধ্যে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করেন অভিনন্দন বলবেন না ‘শুভনন্দন’? শুনে দিলীপের সহাস্য টিপ্পনি, “মাননীয়ার রাজ্যে শুভনন্দনই বলতে হবে”! যা শুনে হাসির ফোয়ারা ওঠে গোটা অফিস রুম জুড়ে।

তাহলে কী বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরের ঠান্ডা লড়াইয়ের ইতি ঘটলো? বিধানসভায় এই বেনজির দৃশ্য কিন্তু অনেক সমীকরণের অঙ্কে জল্পনার হাওয়া বইয়ে দিলো। কিছুদিন আগেও বিজেপির সভাতে একাধিক বিষয়ে মতানৈক্য চোখে পড়েছে। বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরে যেন মহাভারতের মুষল পর্বের গুমোট আবহাওয়া ছিল। তার উপরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রত্যেক পক্ষই তাদের মত করে ঘুঁটি সাজানো শুরু করেছিল। কিন্তু আজকের এই দৃশ্য কোথাও যেন অন্য জল্পনার জন্ম দিল।

তাহলে কী দিল্লি সূত্রে কোনও অন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে? একদা ক্রুদ্ধ দিলীপ হঠাৎ করে কেন শান্ত হলেন? শুভেন্দুই বা কেন হঠাৎ করে দিলীপ ঘনিষ্ঠতার এরকম বার্তা দিলেন আজকে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে? একাধিক প্রশ্ন একটা উত্তরের দিকেই নির্দেশ করছে বলে অনেকের অভিমত। বিশেষজ্ঞ মহলের মধ্যে হয়ত সেই ‘বড়’ পদে আসতে চলেছেন ঘোষ মহাশয়ই। আর এত ‘আনন্দ আয়োজন’ হয়ত সেই কথা মাথায় রেখেই।

Mamata Banerjee: ‘গা বাঁচানো’র ক্ষোভেই মনীশ থেকে মন সরালেন মমতা?

বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা নিয়ে মুখ খোলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। দিলীপের বক্তব্য বাংলা ভাগ নিয়ে তাঁদের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান বা ইচ্ছে বা এজেন্ডা, কিছুই নেই। গোর্খাল্যান্ড থেকে শুরু করে গ্রেটার কোচবিহারের দাবি সবকিছুই রাজ্য সরকারের বঞ্চনার জন্য হয়েছে। এমনকি প্রকারান্তরে উত্তরবঙ্গ নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের প্রপোজালকে সমর্থনও করেন তিনি।

কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক মহল তথা তৃণমূল শিবিরে কিন্তু কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তার কারণ তৈরি হল আজকের এই ছবি দেখে। রাজ্যের বিরোধী দল কি তাহলে ক্রমশ ছন্নছাড়া অবস্থা থেকে একটা অন্য চেহারায় যেতে চলেছে। এটা যদি হয় তাহলে কিন্তু প্রতিপক্ষ হিসাবে বিজেপি যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকাই নেবে। মমতা নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় সেক্ষেত্রে কি নতুন ‘নেমেসিস’ হয়ে আসবেন দিলীপ ঘোষ? সেই উত্তর লুকিয়ে আছে আপাতত ভবিষ্যতের গর্ভে। বর্তমানে শুধুই জল্পনা এবং সমীকরণের খেলা বঙ্গের রাজনীতি জুড়ে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google