অপেক্ষার অবসান ঘটে গেল এবার। চূড়ান্ত হয়ে গেল বেঙ্গল সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন (BSL Final)। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে জেএইচআর রয়্যালস দলকে হারিয়ে শিরোপা জয় করল হোসে ব্যারেটোর হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের ব্যবধানে এলো জয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অমীমাংসিত ফলাফল থাকার পর অতিরিক্ত আধ ঘন্টার শেষ মুহূর্তে গোল করে দলের ট্রফি নিশ্চিত করেন কৌস্তভ দত্ত। বর্তমানে সেলিব্রেশনের মেজাজে দলের কোচ থেকে শুরু করে সকল ফুটবলাররা।
তবে শুরুটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের মধ্যেই হাওড়া হুগলি দলের রক্ষণভাগে ঢুকে গোল পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছিলেন সলমন সহ অরলিয়ানো প্যারেইরা। কিন্তু সেটা কার্যকরী হয়নি। পরবর্তীতে নিজেদের দুই ফুটবলারকে পরিবর্তন করেন জেএইচআর রয়্যাল সিটি।
তারপর আরও যেন ভয়ঙ্কর হয়ে দল। কিন্তু গোলের মুখ খুলছিল না কিছুতেই। তারপর ৩৪ মিনিটের মাথায় আসে বহু কাঙ্ক্ষিত গোল। যেখানে শিলা টোরের গোলে এগিয়ে যায় হোসে ব্যারেটোর হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স। এই গোলের পর থেকেই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সাথে ফুটবল খেলতে শুরু করে হাওড়া-হুগলি দলের ফুটবলাররা।
নির্ধারিত ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ফলাফল প্রায় একই থাকলে ও অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেই গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে ছিলেন পঁচিশ নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার সুখচাঁদ কিসকু। অমীমাংসিত ফলাফল থাকার পর যথেষ্ট দাপটের সাথে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেছিল উভয় দলের ফুটবলাররা। তারপর ৫৬ মিনিটের মাথায় ২১ নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার দ্বীপ গাইনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল হাওড়া হুগলি ওয়ারিয়র্স।
কিন্তু তারপরেই ঘটেছিল অঘটন। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে দ্বীপের। মাঠেই শুয়ে থাকেন বেশ কিছুক্ষণ। বিপদ বুঝতে পেরে মাঠেই অ্যাম্বুলেন্স ডাকে কতৃপক্ষ। তড়িঘড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
তারপর নির্ধারিত নব্বই মিনিটের পর অতিরিক্ত ১৮ মিনিট সময় সংযুক্ত করা হয়। সেই মিনিট ছয়েকের মাথায় কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে গোল করে জেএইচআর রয়্যাল সিটিকে সমতায় ফেরান এমডি সুমিত। তাঁর বাঁকানো শট চলে যায় গোলের মধ্যে। ২-২ ফলাফলে আসার পর বাকি সময় জুড়ে চলতে থাকে লড়াই। কিন্তু আর গোলের দেখা মেলেনি। যারফলে খেলা চলে যায় অতিরিক্ত সময়ের দিকে। অতিরিক্ত তিরিশ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন কৌস্তভ দত্ত।




















