কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা বেড়েছে (BJP candidate)। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস যেমন সংগঠন ও প্রচার কৌশল নিয়ে ব্যস্ত, তেমনই বিরোধী বিজেপিও এবার ভোটের আগে নিজেদের ঘর গুছিয়ে নিতে চাইছে নতুন কৌশলে। বিশেষ করে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দলীয় তৃণমূল স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।
দলীয় সূত্রের দাবি, আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর অনেক জায়গায় অসন্তোষ দেখা যেত। স্থানীয় কর্মী বা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করেই অনেক সময় প্রার্থী ঠিক করা হত, যার ফলে সংগঠনের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হতো। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে জেলা স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।
বাংলাদেশেও ‘লাডলি বহনা’! ভারতের ভোটের ম্যাজিক ফর্মুলা ধার করল বিএনপি-জামায়াত?
একজন সিনিয়র বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জমা দিতে বলা হয়েছে। এই তালিকা জমা দেবেন জেলা সভাপতি, মণ্ডল সভাপতিরা, বর্তমান বিধায়ক এবং সাংসদরা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জেলায় নাম জমা পড়তে শুরু করেছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের মতে, এবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কোথায় দলের শক্তি বেশি, কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ এই সব দিক বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এর ফলে মাঠের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রার্থী বাছাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে বিজেপি।
শুধু প্রার্থী তালিকা নয়, নির্বাচনী ইস্তাহার তৈরির কাজও শুরু করেছে দল। সূত্রের খবর, মানুষের মতামত সংগ্রহ করতে বিভিন্ন জায়গায় ড্রপ বক্স বসানো হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ তাদের দাবি, সমস্যা ও প্রস্তাব লিখে জমা দিতে পারবেন। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই ইস্তাহার তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে আলাদা করে “চার্জশিট” তৈরির কাজও শুরু করেছে বিজেপি। এই চার্জশিটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হচ্ছে বলে দাবি দলীয় সূত্রের। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, ‘কাটমানি’ অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নাগরিক নিরাপত্তার সমস্যা এবং মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়। ভোটের আগে এই সব ইস্যুকে সামনে এনে জনমত গড়ে তুলতে চাইছে বিজেপি।
অন্যদিকে, বিজেপির এই কৌশল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি কীভাবে প্রার্থী বাছাই করবে, সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আমরা এটুকু বলব, তারা যাকেই প্রার্থী করুক না কেন, বাংলার মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। কারণ, তারাই বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি বলেছে এবং এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হয়রানি করেছে। তাই বাংলার মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই বিজেপি এবার সংগঠনের ভেতরে ঐক্য বজায় রাখতে চাইছে। তৃণমূল স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হলে প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ কমবে এবং ভোটের সময় মাঠে সংগঠন আরও সক্রিয় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।




















