রক্তে ভীত গঙ্গাপাড়ের বাঙালি, কলকাতা দখলে যুদ্ধবিমান দরকার নেই: বাংলাদেশি মৌলানা

ঢাকা: বাংলাদেশের এক ইসলামী মৌলানা আব্দুল কুদ্দুস ফারুকির (Bangladeshi)একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যাতে তিনি কলকাতা দখলের জন্য অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও হুমকিস্বরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, “কলকাতা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladeshi-cleric-kolkata-threat-viral-video

ঢাকা: বাংলাদেশের এক ইসলামী মৌলানা আব্দুল কুদ্দুস ফারুকির (Bangladeshi)একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যাতে তিনি কলকাতা দখলের জন্য অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও হুমকিস্বরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, “কলকাতা দখল করতে আমাদের ৭০টা ফাইটার জেটের দরকার নেই। এমনকি ৭টা জেটও লাগবে না। বরং ২০০ জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী পাঠাব।

ভারতে তো শুধু মূর্তিপূজকরা থাকে, তারা রক্ত দেখলে ভয় পায়।” এই কথাগুলো শুনে দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।ভিডিওটি গত বছর মার্চ মাসে বাংলাদেশভিত্তিক ‘হাসান মিডিয়া’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটি ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। ১১ মিনিটের এই ভিডিওতে ফারুকি তালিবানের আত্মঘাতী হামলার কৌশলকে সফল বলে উল্লেখ করেন।

   

আরও দেখুন: বাংলাদেশে ভোটের মুখে ভারতকে অগ্রাধিকারের বার্তা জামাত প্রধানের

তিনি বলেন, “যদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অনুমতি দেয়, তাহলে আমি কলকাতা দখলের পরিকল্পনা করব। কী ব্যবহার করব? আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী। আমি কলকাতায় আত্মঘাতীদের পাঠাব।” তিনি কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “প্রথমে নিজে মরো, তারপর কাফিরদের মারো” এটাই তালিবানের সফল কৌশল, যা আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো সুপারপাওয়ারদের পরাজিত করেছে।

এছাড়া তিনি হিন্দুদের শারীরিকভাবে দুর্বল বলে অপমান করেন, তাদের খাদ্যাভ্যাস নোংরা বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে তারা রক্ত দেখলেই ভয় পায়।এই হুমকি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে মৌলবাদী উত্থানের একটা উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বেড়েছে।

মন্দির, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের খোলামেলা হুমকি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এটাকে গুরুতর হুমকি বলে মনে করছেন, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, এই ধরনের বক্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার বা কোনো বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরাসরি নিন্দা আসেনি। ফারুকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন বলে জানা গেছে, তিনি একজন স্বাধীন ইসলামী বক্তা হিসেবে পরিচিত। তবু এই বক্তব্য উগ্রবাদী মহলে সমর্থন পেয়েছে।ভারতের হিন্দু অধিকার সংগঠনগুলো, যেমন ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’, এই ভিডিও শেয়ার করে কড়া নিন্দা করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের কিছু মধ্যপন্থী মুসলিম নেতা এই বক্তব্যের নিন্দা করে বলেছেন, এটা ইসলামের শান্তির বাণীর বিরোধী। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওর প্রভাবে উগ্রবাদী চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়ছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google