ঢাকা: বাংলাদেশের জামাত নেতা শাহরিয়ার কবির প্রকাশ্যে (Bangladesh)এক বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে নতুন করে অশান্তির বীজ বপনের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, “সেভেন সিস্টার স্বাধীন হওয়া উচিত, আমরা করবই। নাগাল্যান্ড ও মিজোরামকে স্বাধীন হতে হবে। ভারত বাংলাদেশের করিমগঞ্জ দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশ তাদের মুক্ত করতে সাহায্য করবে।”
এই বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।শাহরিয়ার কবিরের এই ঘোষণা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো যাদের সেভেন সিস্টার বলা হয় তাদের স্বাধীনতার দাবি ন্যায্য। বিশেষ করে নাগাল্যান্ড ও মিজোরামকে পুরোপুরি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান তিনি। করিমগঞ্জকে বাংলাদেশের অংশ বলে দাবি করে তিনি বলেন, ভারত এই এলাকা ‘দখল’ করে রেখেছে এবং বাংলাদেশ এসব অঞ্চলকে ‘মুক্ত’ করতে সাহায্য করবে।
আরও দেখুনঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নয়া উদ্বেগ! সক্রিয় হচ্ছে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি বাহিনী স্পেশাল ফোর্স
এমন বক্তব্যকে অনেকেই সীমান্ত অঞ্চলে অশান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।ভারতের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মতে, “এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে কোনো অপপ্রচার বরদাস্ত করা হবে না।” উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নেতারা এই বক্তব্যকে ‘হাস্যকর ও অবাস্তব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নাগাল্যান্ডের এক মন্ত্রী বলেন, “আমরা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানকার মানুষের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ আমরা চাই না।”বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, জামাতের মতো গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডা প্রচার করে আসছে।
আরও দেখুনঃ ‘আমরা হুসেন সোহরাওয়ার্দীর উত্তরসূরি!’ পশ্চিমবঙ্গ থেকে হিন্দুদের তাড়ানোর হুমকি জামাত নেতার
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এ ধরনের বক্তব্যকে কঠোরভাবে দেখছে বলে জানা গেছে। তবে বিরোধী দলগুলোর কেউ কেউ এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।সেভেন সিস্টার অঞ্চল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অংশ। অসম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর।
দীর্ঘদিন ধরে এখানে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, শান্তি চুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। স্থানীয় মানুষ এখন শান্তি ও অগ্রগতি চান।
আরও দেখুনঃ গুয়াহাটিতে পুলিশের বড় অভিযান! উঠে এল ১০০ কোটির জাল নোটের সাম্রাজ্য





