বারুইপুর: বারুইপুরের চাঞ্চল্যকর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এল। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে যখন সূর্যপুরের অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে খবর, সিট (SIT)-এর সদস্য তথা ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার ইনচার্জ রনি সরকারের সার্ভিস রিভলভার হঠাৎই ছিনিয়ে নেয় প্রভাস। তদন্তকারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে রনিকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়। নিজের ও সহকর্মীদের প্রাণ বাঁচাতে এবং অভিযুক্তকে নিরস্ত করতে তখনই পাল্টা গুলি চালান সিটের অপর সদস্য অর্ঘ্য মণ্ডল। অর্ঘ্যর ছোড়া গুলিতেই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে প্রভাস। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্তকে নিরস্তকারী দুই অফিসারের পরিচয়
এই এনকাউন্টারে জড়িয়ে থাকা দুই পুলিশ অফিসারই বারুইপুর পুলিশ জেলায় অত্যন্ত দক্ষ হিসেবে পরিচিত-
অর্ঘ্য মণ্ডল: ২০১৪ ব্যাচের পুলিশ অফিসার অর্ঘ্য বর্তমানে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার পিসি ইনচার্জ। অতীতে জয়নগর, সোনারপুর ও কুলতলি থানায় দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বারুইপুর এসওজি (SOG)-এর ইনচার্জ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
রনি সরকার: কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে সাব-ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হওয়া রনি সরকার বর্তমানে ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত। বিধানসভা নির্বাচনের সময় বকুলতলা থানার ওসির দায়িত্বে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। এর আগে নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর ও জয়নগর থানাতেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই এনকাউন্টারের পর প্রথা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং নিয়ম মেনে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা বা প্রোটোকলের ক্ষেত্রে কোনো খামতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





