ঢাকা: ফের প্রকাশ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়াচ্ছে বাংলাদেশিরা (Bangladesh)। এবার বিতর্কিত মন্তব্য আইনজীবী মহল থেকে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা সম্প্রতি একটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘চিরশত্রু’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে ভারতে ইসলামী শাসনের অবসান এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিভাজনের পিছনে হিন্দুদের ষড়যন্ত্র ছিল।
এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এবং বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, এমন বক্তব্য আইনি মহল থেকে উঠে আসায় দেশে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ আরও তীব্র হচ্ছে।আবেদ রাজার এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের হিন্দু অধিকার সংগঠনগুলো থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
আরও দেখুন: মোদীর সফরের আগেই কুয়ালালামপুর থেকে গ্রেফতার জাকির অনুগামী
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই বক্তব্য শেয়ার করে বলা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়া শুধু অস্বাভাবিক নয়, বরং দেশের বিচার ব্যবস্থা ও সমাজে গভীর বিভেদের ইঙ্গিত দেয়। আবেদ রাজা তার বক্তব্যে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে একপেশে ভাবে উপস্থাপন করেছেন মুঘল ও ব্রিটিশ যুগের শাসনকে ইসলামী শাসন হিসেবে দেখিয়ে হিন্দুদের বিরোধিতাকে দায়ী করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন যে হিন্দুরা সবসময় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসেছে, যা ১৯৪৭-এর বিভাজন এবং ১৯৭১-এর যুদ্ধের পিছনে কাজ করেছে। এই ধরনের বক্তব্যকে অনেকে হেট স্পিচ হিসেবে দেখছেন, যা দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে আরও অসুরক্ষিত করে তুলতে পারে।বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মন্দির ভাঙচুর ও জমি দখলের শিকার হয়েছে।
২০২১ সালের দুর্গাপূজার সময় ব্যাপক হিংসা, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর হিন্দু বাড়িঘরে আক্রমণ এসব ঘটনায় অনেকে মনে করেন যে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে এমন মানসিকতা থাকলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে। আবেদ রাজার মতো ব্যক্তি যিনি সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন, তার এমন বক্তব্য আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে।
বাংলাদেশের সংবিধান সকল ধর্মের সমান অধিকারের কথা বললেও, বাস্তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রায়ই অসহায় বোধ করে। এই ঘটনা সেই অসহায়ত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ আবেদ রাজাকে সমর্থন করছেন, বলছেন এটা ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া নিন্দামূলক।
হিন্দু নেতা ও অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, এমন কথা শুধু ঘৃণা ছড়ায় না, বরং সমাজে বিভেদ বাড়ায় এবং হিংসাকে উস্কে দেয়। বাংলাদেশের আইনি মহলে এমন মানসিকতা থাকলে বিচার ব্যবস্থায় সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকে দাবি করছেন যে এই ধরনের হেট স্পিচের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকা যায়।




















