ঢাকা: বাংলাদেশে হিন্দু খুনের প্রশ্ন করতেই চরম ফ্যাসিবাদী ব্যবহার। বাংলাদেশের (Bangladesh)অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান রাজ্য উপদেষ্টা একটি সাংবাদিক সম্মেলন থেকে হঠাৎ বেরিয়ে চলে গেলেন। সাংবাদিকরা ওই উপদেষ্টাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর গণপিটুনি ও খুনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। সাংবাদিকদের দাবি, প্রশ্নগুলো শুরু হতেই তিনি প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেন এবং সম্মেলন থেকে চলে যান।
এই ঘটনাকে অনেকে ‘পিক ফ্যাসিজম’-এর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, যেখানে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব সংখ্যালঘু নির্যাতনের মতো গুরুতর বিষয়ে জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছেন।ঘটনাটি ঘটে একটি প্রেস কনফারেন্সে, যেখানে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। সাংবাদিকরা যখন সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, গণপিটুনি এবং খুনের ঘটনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তখনই পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
কালই সই ‘মাদার অফ অল ডিল’! সস্তা হচ্ছে বিএমডব্লিউ-মার্সিডিজ, মোদী-ইইউ ম্যাজিক
একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে সরাসরি সম্মেলন শেষ করে বেরিয়ে যান। সাংবাদিকরা বলছেন, এমন আচরণ অভূতপূর্ব এবং এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে।বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে একাধিক হিন্দু নেতা ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তির লিঞ্চিংয়ের ঘটনা নিয়ে সরকারের তরফে নিন্দা জানানো হলেও, অনেকে বলছেন যে বাস্তবে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠন দাবি করেছে যে মাত্র ১৮ দিনে ছয়জন হিন্দু খুন হয়েছে, এবং এর জন্য ইউনুসের ‘অশান্তির সাম্রাজ্য’-কে দায়ী করেছে।
ভারতে প্রতিবাদও হয়েছে, যেখানে হিন্দু সংগঠনগুলো ইউনুসের পদত্যাগ দাবি করেছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে এসব অভিযোগকে প্রায়শই ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউনুস নিজে একবার বলেছেন যে হিন্দুদের উপর হামলার বিষয়টি রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয় এবং এটাকে বাড়িয়ে চড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য এবং প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাংবাদিকরা যখন এই বিষয়ে খোঁজখবর নিতে চান, তখনই সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে।




















