কালই সই ‘মাদার অফ অল ডিল’! সস্তা হচ্ছে বিএমডব্লিউ-মার্সিডিজ, মোদী-ইইউ ম্যাজিক

নয়াদিল্লি: “ভারতের সাফল্য বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ করে তোলে।” ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে দিল্লির কর্তব্য পথে দাঁড়িয়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
India EU Free Trade Agreement

নয়াদিল্লি: “ভারতের সাফল্য বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ করে তোলে।” ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে দিল্লির কর্তব্য পথে দাঁড়িয়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইইউ-র এই শীর্ষ নেত্রী এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: কালই সই হতে পারে বাণিজ্য চুক্তি

উৎসবে মেজাজের মাঝেই দানা বাঁধছে এক বিশাল অর্থনৈতিক সন্ধি। দীর্ঘ ১৮ বছরের টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত হতে চলেছে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। আগামী ২৭ জানুয়ারি ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল যাকে আগেই ‘মাদার অফ অল ডিল’ বা সব চুক্তির সেরা বলে অভিহিত করেছেন।

   

সাধারণ মানুষের লাভ কী? India EU Free Trade Agreement

এই চুক্তির ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে শিল্প মহলে বড়সড় বদল আসতে চলেছে-

গাড়ির দাম কমবে: প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারে ভারত। এর ফলে ভক্সওয়াগন, মার্সিডিজ বা বিএমডাব্লিউ-র মতো গাড়ি কেনা আরও সহজ হবে।

রফতানিতে জোয়ার: ভারতের টেক্সটাইল, ওষুধ এবং আইটি সেক্টরের জন্য ইউরোপের ২৭টি দেশের বাজার উন্মুক্ত হবে।

মার্কিন শুল্কের মোকাবিলা: আমেরিকার সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতির চাপে যখন বিশ্ববাজার অস্থির, তখন ইউরোপের সঙ্গে এই হাত মেলানো ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় রক্ষা কবজ হতে পারে।

কেন এই চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারত ও ইইউ-র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৫ বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তির ফলে তা কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০০৭ সালে এই আলোচনা শুরু হলেও ২০১৩ সালে তা থমকে গিয়েছিল। ২০২২ সালে পুনরায় আলোচনার পর ২০২৬-এর প্রজাতন্ত্র দিবসের আবহে তা সফল পরিণতি পেল। উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এই উদযাপনে প্রধান অতিথি হওয়া সারা জীবনের এক অনন্য সম্মান।”

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google