অসমের বারাকে নামল ১০০ বুলডোজার! উচ্ছেদ ১২০০ মিয়া

গুয়াহাটি: অসম সরকারের কড়া অভিযানে বরাক ভ্যালির হাইলাকান্দি জেলায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে (Assam eviction)। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘরমুরা ইনার লাইন রিজার্ভ ফরেস্টে অবৈধ দখলদারদের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
assam-eviction-drive-hailakandi-reserve-forest-bulldozer-action

গুয়াহাটি: অসম সরকারের কড়া অভিযানে বরাক ভ্যালির হাইলাকান্দি জেলায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে (Assam eviction)। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘরমুরা ইনার লাইন রিজার্ভ ফরেস্টে অবৈধ দখলদারদের সরানোর জন্য প্রায় ১০০ বুলডোজার (বা জেসিবি) এবং ১,৫০০-এর বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুসারে, এই অভিযানে প্রায় ১,২০০ অবৈধ বাংলাদেশি মিয়া মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যারা সংরক্ষিত বনভূমিতে ঘরবাড়ি তৈরি করে বাস করছিল।

এটি বরাক ভ্যালির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযানগুলোর একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে।অভিযানটি ঘরমুরা ইনার লাইন রিজার্ভ ফরেস্টে শুরু হয়েছে, যা মিজোরাম সীমান্তের কাছে অবস্থিত। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এটি পরিচালনা করছে। এলাকাটিকে সাতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে প্রথম দিন সেক্টর ৫, ৬ ও ৭-এ কাজ হয়েছে, বাকি সেক্টরগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ হবে।

   

আরও দেখুন: হিন্দু ষড়যন্ত্রেই পতন ইসলামী শাসনের? বিস্ফোরক আইনজীবী

অফিসাররা জানিয়েছেন, প্রায় ২,৮০০ বিঘা (প্রায় ৯১২ একর) বনভূমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্য। এখানে দখলদাররা বছরের পর বছর ধরে ঘর তৈরি করে, আখরোট, নারকেলসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছিল। এক মাস আগে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেকে সরেনি। ফলে বুলডোজার নামানো হয়েছে।অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেছেন, “অবৈধ দখল শেষ, আইন ও জমি ফিরে আসছে।

অসম ব্যবসা করছে না, আইন প্রয়োগ করছে।” সরকারের দাবি, এই দখলদাররা বেশিরভাগই অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা ‘মিয়া’ মুসলিম, যারা বনভূমি ধ্বংস করে বসতি গড়েছে। অভিযানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া রাখা হয়েছে যাতে কোনও অশান্তি না হয়। ফরেস্ট অফিসার আখিল দত্ত বলেছেন, এটি পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যত দখল রোধের জন্য জরুরি।এই অভিযান নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকে দাবি করছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বাস করছে এবং অনেকে ভারতীয় নাগরিক। তারা বলছেন, উচ্ছেদের পর কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেই, যা মানবিক সংকট তৈরি করছে। হিউম্যান রাইটস গ্রুপগুলো বলছে, এমন অভিযানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত নিয়ম (যেমন যথেষ্ট নোটিশ, পুনর্বাসন) মানা হচ্ছে না।

অতীতে অসমে এমন উচ্ছেদে প্রতিবাদে সংঘর্ষ হয়েছে, কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এবার নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া উপস্থিতিতে অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে চলছে।বরাক ভ্যালিতে (হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ, কাছাড়) বাংলাভাষী মুসলিম জনসংখ্যা অনেক। অসম সরকারের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও বন রক্ষার নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযান চলছে।

অন্যান্য জেলায়ও (যেমন সোনিতপুর, গোয়ালপাড়া) একই ধরনের উচ্ছেদ হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে। সরকার বলছে, এটা পরিবেশ রক্ষা ও জমির সঠিক ব্যবহারের জন্য। কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, এতে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং সম্প্রদায়গত বিভেদ বাড়ছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google