রেজিনগর: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবথেকে বেশি, প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার রেজিনগরের জনসভা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য বড়সড় আশ্বাস দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন রেজিনগর ও ভরতপুরের দলীয় প্রার্থী আতাউর রহমান এবং মুস্তাফিজুর রহমান সুমনের সমর্থনে শক্তিপুর থানার সামনে সভা করেন অভিষেক। ডিলিটেড ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আগামী ৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তৈরি হবে। যাঁরা গায়ের জোরে নাম বাদ দিয়েছে, তাঁদের জবাব দিয়ে আমাদের প্রথম শপথ, এক মাসের মধ্যে সকলের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।” নাম বাদ গেলেই ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে, এমন আতঙ্ক উড়িয়ে অভিষেক স্পষ্ট জানান, বাংলায় কাউকে বেনাগরিক হতে দেওয়া হবে না এবং এনআরসি (NRC) কার্যকর হতে দেওয়া হবে না।
ভোটার তালিকার পাশাপাশি এদিন অভিষেকের নিশানায় ছিলেন বিরোধী প্রার্থী হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের অন্যতম প্রতিপক্ষ হুমায়ুনের দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’। সম্প্রতি হুমায়ুনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বিজেপির সঙ্গে তাঁর হাজার কোটি টাকার ‘ডিল’-এর অভিযোগ উঠেছে। হুমায়ুন ওই ভিডিওটিকে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি বলে দাবি করলেও এদিন পাল্টা তোপ দাগেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভিডিওটি যদি এআই দিয়ে বানানো হয়, তাহলে হুমায়ুনের দলের রাজ্য সভাপতি ইস্তফা দিলেন কেন? ওয়েইসির মিম কেন সঙ্গ ছাড়ল?” এই কেন্দ্র থেকে হুমায়ুনের বিরুদ্ধেই লড়ছেন তৃণমূলের আতাউর রহমান। ভোটের মুখে অভিষেকের এই জোড়া বার্তায় মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।




















