ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকে ইরান ইস্যুতে জোর, ‘সাদা বাড়ি’তে ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার আলোচনা

ওয়াশিংটন: ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যের জল্পনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রায় ৯০ মিনিটের…

trump-netanyahu-white-house-meeting-iran-gaza-lebanon-discussions

ওয়াশিংটন: ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যের জল্পনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রায় ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন। ইরানের বিরুদ্ধে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এটি ছিল দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, বৈঠকটি “ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ” হয়েছে। যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, আলোচনা ছিল “অসাধারণ”। তাঁর কথায়, এটি ছিল দুই মিত্র দেশের মধ্যে পূর্ণ সহযোগিতা, পারস্পরিক সমর্থন এবং ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। তিনি এটিকে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর অন্যতম সেরা বৈঠক বলেও উল্লেখ করেন।

Advertisements

ইরান ইস্যুতেই সামনে এল মতপার্থক্য

বৈঠকের আগেই দুই নেতার মধ্যে ইরান নীতি নিয়ে মতের অমিল প্রকাশ্যে আসে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, নেতানিয়াহু ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন (Pickaxe Mountain)-এ কথিত পারমাণবিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত ইজরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প Fox & Friends-কে বলেন, ওই স্থানে কী ঘটছে তা তাঁর জানা রয়েছে এবং বিষয়টিকে তিনি “খুব বড় সমস্যা” বলে মনে করছেন না। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে এই ইস্যুতে আরও সক্রিয় রাখতে চাইছেন।

এর আগের দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন, ইরান ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে “সামান্য মতপার্থক্য” রয়েছে, যদিও সামগ্রিকভাবে দুই দেশ একই অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, সফরের আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, কূটনৈতিক উপায়ে যদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা যায়, তাহলে সেটাই ভালো। তবে যেভাবেই হোক, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ করতেই হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

গাজা, লেবানন ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডও আলোচনায়

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে শুধু ইরান নয়, গাজা পরিস্থিতি, লেবাননের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ড সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ইজরায়েল সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের একটি পরীক্ষামূলক পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে রোমে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কাঠামোর অধীনে একটি প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর প্রথম সদস্যদের সীমিত আকারে রাফাহ এলাকায় মোতায়েনের পরিকল্পনাও আলোচনায় উঠে আসে।

দেশীয় রাজনৈতিক চাপও বড় কারণ

এই বৈঠক এমন এক সময়ে হল, যখন দুই নেতাই নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। নেতানিয়াহু আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনারও মুখোমুখি হচ্ছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের ওপরও ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনের আগে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহু সামরিক চাপ বজায় রাখার পক্ষপাতী। এই ভিন্ন অবস্থানের কারণেই দুই নেতার মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের ধারণা।
হোয়াইট হাউসের বাইরে নেতানিয়াহুর সফরের প্রতিবাদে কয়েকজন বিক্ষোভকারীও জমায়েত হন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রে ইজরায়েলের প্রতি জনসমর্থন আগের তুলনায় কমেছে বলেও উঠে এসেছে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের