তেহরান: ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ (Mehrabad Airport)আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানি মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সূত্র জানিয়েছে, এই হামলা মঙ্গলবার সন্ধেতে করা হয়েছে। মেহরাবাদ বিমানবন্দর, যা মূলত দেশীয় ফ্লাইট পরিচালনা করে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র সামরিক কার্যক্রমের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এখানে আইআরজিসি-র মিসাইল ডিপো এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। হামলার ফলে বিমানবন্দরের রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এবং কাছাকাছি এলাকায় কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠেছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর অন্যতম।
আরও দেখুনঃ দর্শকশূন্য স্টেডিয়াম! ওড়িশা ম্যাচ বয়কটের পথে বাগান সচিব
আইডিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন এবং লঞ্চ সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে। মেহরাবাদে আর্টেশ এয়ার ফোর্সের ১ম ট্যাকটিক্যাল এয়ারবেসও অবস্থিত, যা আইআরজিসি-র সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহার হয়। এই হামলা ইরানের বিমান শক্তিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। ইরানি মিডিয়া মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিমানবন্দরে ধোঁয়া উড়ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড়।
মেহরাবাদ বিমানবন্দর ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসিয়াল বিমান চলাচলের জন্যও ব্যবহৃত হয়। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এখান থেকেই তাদের বিশেষ ফ্লাইটে উঠেন। হামলার পর ইরানের নেতৃত্বের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ‘ডানা ছাঁটা’র একটি বড় ধাপ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিমানবন্দরগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বুশেহর বিমানবন্দরে একটি যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস হয়েছে। মেহরাবাদে হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং সামরিক লজিস্টিক্সকে বিঘ্নিত করবে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, “এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।” তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় ধোঁয়া উঠেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হবে না দ্রুত এবং নির্ণায়ক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ১,২৫০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে।



















