কলকাতা: সুন্দরবনে (Sundarbans) বাঘ সংরক্ষণে আশার খবর। সাম্প্রতিক ক্যামেরা ট্র্যাপ সমীক্ষায় অন্তত ১২টি বাঘিনীকে (Royal Bengal Tiger) শাবক ও সাব-অ্যাডাল্ট বাঘের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের মতে, এই প্রজননের প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী বছরের অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন (AITE)-এ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৮ থেকে ১২টি পর্যন্ত বাড়তে পারে, যদি জাতীয় গণনার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ হয়।
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই ক্যামেরা ট্র্যাপ সমীক্ষা চালানো হয়। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ১,৪০০টি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সেই ক্যামেরায় হাজার হাজার ছবি ধরা পড়েছে।
গ্লোবাল টাইগার ডে-র আগে বন দফতর কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এই ছবিগুলি সুন্দরবনে স্থিতিশীল বাঘের সংখ্যা এবং সুস্থ ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একটি ছবিতে একটি ফিশিং ক্যাটকে নিজের শরীরের চেয়েও বড় মাছ বহন করতে দেখা গেছে, যা সুন্দরবনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন অনুযায়ী সুন্দরবনে ১০১টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছিল। বন দফতরের আশা, এবার ক্যামেরায় ধরা পড়া শাবক ও সাব-অ্যাডাল্ট বাঘগুলি জাতীয় গণনার যোগ্যতা অর্জন করলে সরকারি সংখ্যাও বাড়তে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করছেন, সুন্দরবন ইতিমধ্যেই তার পরিবেশগত ধারণক্ষমতার (Ecological Carrying Capacity) প্রায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ খাদ্য, পানীয় জল এবং বাসস্থানের ভিত্তিতে এই অঞ্চলে যতগুলি বাঘ টেকসইভাবে থাকতে পারে, সেই সীমা প্রায় পূরণ হয়ে গিয়েছে।
ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া-র প্রাক্তন বিজ্ঞানী এবং ২০২২ সালের অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন রিপোর্টের সহ-লেখক কামার কুরেশি জানান, এক বছরের বেশি বয়সী, বিশেষ করে দুই বছরের কাছাকাছি বয়সের বাঘ সাধারণত মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে চলাফেরা শুরু করে এবং তাদের মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে। তাই এই ধরনের বাঘকে জাতীয় গণনায় আলাদা ব্যক্তি (Individual Tiger) হিসেবে ধরা হয়।
তবে তিনি বলেন, সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ছিল, এখনও তেমনই রয়েছে। তাঁর মতে, ৪-৫টি বাঘ বাড়া বা কমা খুব বড় পরিবর্তন নয়, কারণ সুন্দরবন তার ধারণক্ষমতার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
অন্য এক বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধ্যে বাঘের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়া উচিত। তবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সুন্দরবন অংশে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA)-র চলতি অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন-এর বিশ্লেষণ এখনও শুরু হয়নি। প্রাথমিক ফলাফল আগামী বছর প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের





