শুধু ভালোবাসা নয়, এই ৭ অভ্যাসেই দীর্ঘদিন সুখী থাকে দাম্পত্য সম্পর্ক

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: বর্তমান সময়ে সম্পর্ক (Relationship) গড়ে তোলা যতটা সহজ, সেই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সুস্থ, সুন্দর ও সুখী রাখা ততটাই চ্যালেঞ্জের। ব্যস্ত কর্মজীবন, মানসিক চাপ,…

7-habits-of-happy-marriage-relationship-experts-tips-for-healthy-relationship

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: বর্তমান সময়ে সম্পর্ক (Relationship) গড়ে তোলা যতটা সহজ, সেই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সুস্থ, সুন্দর ও সুখী রাখা ততটাই চ্যালেঞ্জের। ব্যস্ত কর্মজীবন, মানসিক চাপ, স্মার্টফোন ও সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং একে অপরের জন্য পর্যাপ্ত সময় না বের করতে পারা, এই সব কারণেই অনেক সম্পর্ক ধীরে ধীরে দূরত্বের মুখে পড়ছে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভালোবাসা বা আকর্ষণ কোনও সম্পর্ককে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে পারে না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং খোলামেলা যোগাযোগই সুখী দাম্পত্যের আসল ভিত্তি।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে অধিকাংশ দম্পতির মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যোগাযোগের অভাব। একই ছাদের নিচে থেকেও অনেক সময় কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে যায় সংসারের কাজ, অফিস বা দৈনন্দিন দায়িত্বে। নিজের অনুভূতি, উদ্বেগ বা প্রত্যাশার কথা প্রকাশ না করলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তেই থাকে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট শুধু একে অপরের সঙ্গে নির্ভারভাবে কথা বলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও ডিজিটাল ডিভাইস দূরে রাখলে সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

Advertisements

মনোবিদদের মতে, ‘অ্যাকটিভ লিসেনিং’ বা মন দিয়ে সঙ্গীর কথা শোনা একটি সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। অনেকেই উত্তর দেওয়ার জন্য শোনেন, কিন্তু বোঝার জন্য শোনেন না। ফলে সমস্যার সমাধান হওয়ার বদলে নতুন সমস্যার জন্ম হয়। একজন মানুষ যখন অনুভব করেন যে তাঁর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে, তখন সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ অনেকটাই বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক করে তোলে। প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের জন্য ‘ধন্যবাদ’ বলা, কোনও সাফল্যে প্রশংসা করা বা কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো, এই ছোট ছোট বিষয়ই সম্পর্কে উষ্ণতা বজায় রাখে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর অনেকেই মনে করেন, এসব আলাদা করে বলার দরকার নেই। কিন্তু বাস্তবে এই অভ্যাসই সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখে।

যে কোনও সম্পর্কেই মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই মতবিরোধ যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখনই সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাগের মুহূর্তে কঠিন কথা না বলে কিছুটা সময় নিয়ে শান্তভাবে আলোচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ভুল হলে ক্ষমা চাইতে এবং অপরজনকে ক্ষমা করতে শেখাও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবও সম্পর্কের উপর পড়ছে। অন্যের সাজানো-গোছানো জীবন দেখে অনেকেই নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করেন। এতে অযথা প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং ছোট সমস্যাও বড় বলে মনে হয়। মনোবিদদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে দেখা সুখের মুহূর্তই বাস্তব জীবনের পুরো চিত্র নয়। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের সম্পর্ককে নিজের মতো করে গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও একসঙ্গে সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি। দামী রেস্তোরাঁ বা বিদেশ ভ্রমণই যে সম্পর্ককে মজবুত করে, এমন নয়। একসঙ্গে চা খাওয়া, সন্ধ্যায় হাঁটতে যাওয়া, বাড়িতে বসে সিনেমা দেখা কিংবা সপ্তাহে একদিন নিরিবিলিতে সময় কাটানো, এই সাধারণ মুহূর্তগুলিই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের পরিমাণ নয়, বরং সেই সময়ের গুণগত মানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিশ্বাসই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে শক্ত ভিত। জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ, আর্থিক চাপ, পেশাগত পরিবর্তন বা পারিবারিক দায়িত্বের সময় একে অপরকে দোষারোপ না করে সহযোগিতা করলে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সুখী দাম্পত্যের কোনও জাদুমন্ত্র নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন, আন্তরিকতা, পারস্পরিক সম্মান, খোলামেলা কথা বলা এবং বিশ্বাস, এই কয়েকটি অভ্যাসই একটি সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সুন্দর ও শক্তিশালী করে রাখতে পারে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের