কলকাতা: দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট, কলকাতা (IIM Calcutta)-র প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) দেওয়ার প্রক্রিয়া ফের শুরু হওয়ায় এই আশা জোরদার হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে IIM কলকাতা। প্রথম পর্যায়ে তৈরি হবে ৯৫০ জনের আবাসন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন হস্টেল, একটি চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবন, সাবস্টেশন, সার্ভিস বিল্ডিং এবং ফুড কোর্ট। পুরো প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং লক্ষ্য হল ক্যাম্পাসকে কার্বন-নিউট্রাল ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
IIM কলকাতার ডিরেক্টর অলোক কুমার রাই জানান, এই প্রকল্পের জন্য Higher Education Financing Agency (HEFA)-এর মাধ্যমে ৫১৫ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বহু বছর ধরে প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।
তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীদের আবাসন ও শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-কে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে সমস্ত বাধা দ্রুত দূর করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
অলোক কুমার রাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথম পর্যায়ে নতুন হস্টেল, অ্যাকাডেমিক ভবন, সাবস্টেশন, সার্ভিস ব্লক এবং ফুড কোর্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প আটকে ছিল। ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই।”
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও সংবাদমাধম্যকে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার NOC দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় অর্থায়নে হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভার (KMC) একটি NOC-র অভাবে দীর্ঘদিন আটকে ছিল। তবে কলকাতা পুরসভার মূল্যায়ন বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বকেয়া সম্পত্তি কর পরিশোধের পরই NOC প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ভার্চুয়াল মাধ্যমে নতুন হস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
প্রস্তাবিত জি+৯ (গ্রাউন্ড প্লাস ৯ তলা) হস্টেল কমপ্লেক্সে থাকবে ৭২৬টি সাধারণ কক্ষ, যেখানে কমন ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ২০০টি সংযুক্ত বাথরুম-সহ কক্ষও তৈরি হবে।
এই হস্টেলটি GRIHA ৫-স্টার গ্রিন বিল্ডিং মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত হবে। এতে থাকবে শক্তি-সাশ্রয়ী কক্ষ, সাইকেল পার্কিং, স্মার্ট হিটিং ব্যবস্থা, আধুনিক জল সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ একাধিক পরিবেশবান্ধব সুবিধা।
IIM কলকাতার এক আধিকারিকের মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে আধুনিক পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। তাই কার্বন-নিউট্রাল ক্যাম্পাস, উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এখন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সব প্রশাসনিক জট কাটলে আগামী দিনে IIM কলকাতার এই বৃহৎ গ্রিন ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের আবাসন ও শিক্ষার পরিকাঠামো যেমন উন্নত হবে, তেমনই দেশের অন্যতম শীর্ষ ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে IIM কলকাতার আন্তর্জাতিক মানও আরও শক্তিশালী হবে।





