বাবান আদক, কলকাতা: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মঞ্চে আয়োজক দেশের দাপটের কাছে কি তবে সরাসরি মাথা নত করল ফিফা? সোমবার শেষ ষোলোর মেগা ম্যাচে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আগের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর শাস্তি রাতারাতি মকুব করা হয়েছে। ফিফার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলে এখন তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
Also Read | আর্জেন্টিনার এই দাপুটে ফুটবলারকে দলে টানার পথে গোয়া
গত ম্যাচে ভিএআর (VAR) রিভিউতে স্পষ্ট দেখা যায়, বালোগুন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গোড়ালি মাড়িয়ে দিয়েছেন। রেফারি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান, যার অর্থ নিশ্চিত এক ম্যাচের নির্বাসন। কিন্তু ম্যাজিকের মতো ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে সেই শাস্তি স্থগিত করে দেওয়া হলো। ফিফা জানাল, বালোগুন এক বছরের ‘পর্যবেক্ষণে’ থাকবেন। অতীতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের প্রয়োগ হয়েছিল, সেই যুক্তি খাড়া করেই এবার মার্কিন স্ট্রাইকারকে ছাড়পত্র দিয়ে দিল ফিফা।
Also Read | নয়া মরসুমে কোন দলে খেলবেন ব্রাইসন ফার্নান্দেজ?
কিন্তু ফিফার এই ‘দয়া’ দেখে প্রশ্ন ওঠাটা ভীষণ স্বাভাবিক। ফিফা কি সত্যিই সব সময় এতটা নমনীয় থাকে? ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলছে। ফিরে দেখা যাক ২০০২ সালের বিশ্বকাপ। জার্মানির মাঝমাঠের প্রাণভোমরা মাইকেল বালাক কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালে পরপর দুটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। ফলস্বরূপ, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে স্বপ্নের ফাইনালে তাঁকে মাঠের বাইরে বসে চোখের জল ফেলতে হয়েছিল। গোটা জার্মানি সেদিন কেঁদেছিল, কিন্তু ফিফা নিয়মের বেড়াজাল একচুলও ভাঙেনি। সেদিন তো কোনো অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে বালাককে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়নি! তাহলে আজ বালোগুনের বেলায় কেন এই বিশেষ সুবিধা?
Also Read | লক্ষ্য মূলপর্ব! এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সহজ গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল,
উত্তরটা হয়তো লুকিয়ে আছে আয়োজক দেশের নামের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর ফের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশায় মরিয়া আমেরিকা। চলতি টুর্নামেন্টে তিন গোল করা বালোগুনকে ছাড়া কোচ পোচেত্তিনোর দল কার্যত ছন্নছাড়া। তাই ফুটবল মহলে এখন জোরালো গুঞ্জন, মার্কিন প্রশাসনিক মহলের প্রবল চাপের কাছেই কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে ফিফা। আয়োজক দেশের ক্ষমতা, অর্থ আর প্রশাসনিক দাপটে যদি এভাবেই রাতারাতি ফুটবলের নিয়মকানুন বদলে যায়, তবে বিশ্বমঞ্চে ফুটবলের নিরপেক্ষতা আর কোথায় রইল? খেলাটা কি তবে এখন পুরোপুরি ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে গেল?


