প্রতিমুহূর্তে ভাঙছে তৃণমূল। নিঃসঙ্গ হচ্ছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এবার বিদ্রোহী শিবিরে ২০ নম্বরের নামের তালিকায় উঠে এল সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের নাম (Sudip Bandyopadhyay)। আজ শনিবার শতাব্দী রায়ের সঙ্গে এক সাথে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান সুদীপ বন্দোপাধ্যায়।
বঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার ঝড় উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ এবং লোকসভায় দলের সংসদীয় নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই বর্ষীয়ান নেতা হঠাৎ করেই রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। শনিবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁর উপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘জুটত শুধু অবহেলা!’ শিলিগুড়ি পুরনিগমে সংবর্ধিত হয়ে আবেগপ্রবণ বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ
রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অসন্তোষ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছিল। দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়ে একাধিক সাংসদের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর শোনা যাচ্ছিল। সেই আবহেই বিদ্রোহী সাংসদদের একটি তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। প্রথমদিকে ওই তালিকায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না থাকলেও শনিবারের ঘটনাপ্রবাহ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শনিবার সকালে তৃণমূলের আরেক বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, সেখানে বেশ কিছু সময় ধরে রাজনৈতিক আলোচনা চলে। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি, তবুও এই সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদের দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের খবর রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ। দলের সংসদীয় কৌশল নির্ধারণ থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই কারণে তাঁর মতো একজন প্রবীণ নেতার নাম বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



















