কলকাতা: সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবার বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগের সরকারের জনপ্রিয় ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির আদলেই এবার রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ‘জনকল্যাণ শিবির’। জানা গিয়েছে, আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে এই বিশেষ মেগা শিবিরের আয়োজন করা হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকারের এটিই প্রথম সবচেয়ে বড় জনসংযোগ বা আউটরিচ কর্মসূচি, যেখানে মানুষ এক ছাদের তলায় বসে সরকারের ৫৫ ধরনের পরিষেবা ও প্রকল্প সংক্রান্ত সাহায্য পাবেন। (public welfare camps in every block starting-june-15)
নজরে অন্নপূর্ণা যোজনা
রাজ্যে বিশেষ করে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু বহু আবেদনকারীই ফর্ম পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া এবং প্রকল্পের জটিল নিয়মাবলি বুঝতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। মানুষের এই ভোগান্তি দূর করে তাঁদের হাতে সরাসরি সরকারি সুবিধা তুলে দিতেই এই শিবিরের পরিকল্পনা বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
কী কী সুবিধা মিলবে শিবিরে?
সরকারি সূত্রের দাবি, এই ক্যাম্পগুলি থেকে রাজ্য ও কেন্দ্র, উভয় সরকারেরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা ও সহায়তা প্রদান করা হবে। অন্নপূর্ণা যোজনা, যুবশক্তি প্রকল্প, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং পিএম কিষান যোজনার মতো প্রকল্পগুলিতে নতুন করে আবেদন বা নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ।
আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা অন্যান্য সরকারি নথিতে কোনও ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও হাতেকলমে সাহায্য করা হবে এই শিবিরগুলি থেকে।
কোনও সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যা হলে বা দীর্ঘদিন ধরে কোনও আবেদন আটকে থাকলে, শিবিরে সরাসরি অভিযোগও জানাতে পারবেন আমজনতা।
প্রশাসনের লক্ষ্য ও রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রশাসনের মতে, স্রেফ তথ্যের অভাব বা জটিল প্রক্রিয়ার কারণে যাতে কোনও যোগ্য ব্যক্তি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলিকে ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারের কাজকর্মকে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতেই এই তিন দিনের ‘মেগা আউটরিচ’ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে আগামী সপ্তাহে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকেই জনকল্যাণ শিবির ঘিরে প্রশাসনিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ ব্যস্ততা দেখা যেতে পারে।



















